ফাহাদ বিন মর্তুজা
•••
সংবাদমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশন করে না; তারা ভাষা, শব্দচয়ন, উৎস নির্বাচন, দৃশ্য উপস্থাপন এবং বর্ণনার মাধ্যমে কোনো ঘটনার সামাজিক অর্থও নির্মাণ করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংকট, গণআন্দোলন বা জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে সংবাদ উপস্থাপনের ধরন জনমতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই ধরনের শব্দ, শিরোনাম, দৃশ্য ও ব্যাখ্যার ধারাবাহিক পুনরাবৃত্তি একটি নির্দিষ্ট বাস্তবতার ধারণাকে শক্তিশালী করতে পারে, যা যোগাযোগ ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় ইলিউসরি ট্রুথ ইফেক্ট নামে পরিচিত।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বাংলাদেশের টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও প্রতিবেদনসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য কোনো সংবাদমাধ্যমের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা নয়; বরং সংবাদ উপস্থাপনে ব্যবহৃত ভাষা, শব্দের পুনরাবৃত্তি, বর্ণনার কাঠামো, ফ্রেমিং, উৎস নির্বাচন এবং দৃশ্যগত উপস্থাপনার ধরণ চিহ্নিত করা।
এই বিশ্লেষণে ১০টি টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের মোট ৪২টি ভিডিও-কনটেন্ট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভিডিওতে ব্যবহৃত শব্দ, শিরোনাম, প্রতিবেদকের ভাষ্য, নির্বাচিত সাক্ষাৎকার, দৃশ্য এবং পুনরাবৃত্ত বার্তাকে একটি মানসম্মত কনটেন্ট অ্যানালাইসিস কাঠামোর মাধ্যমে কোডিং ও শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, কোন শব্দ ও বর্ণনা সবচেয়ে বেশি পুনরাবৃত্ত হয়েছে, কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কোন বিষয় তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত থেকেছে এবং এসব উপাদান সম্মিলিতভাবে কী ধরনের সংবাদ-ন্যারেটিভ নির্মাণ করেছে।
এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক অবস্থান বা অভিপ্রায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়; বরং সংবাদে ব্যবহৃত দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য উপাদানসমূহ বিশ্লেষণ করে কোন ধরনের ভাষাগত ও বর্ণনাগত প্যাটার্ন বিদ্যমান ছিল, তা নথিভুক্ত করা এবং যোগাযোগ ও গণমাধ্যম গবেষণার আলোকে তার সম্ভাব্য তাৎপর্য মূল্যায়ন করা।
এই গবেষণায় গুণগত এবং পরিমাণগত বিশ্লেষণ বা কনটেন্ট অ্যানালাইসিস পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণের জন্য ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময়ে ১০টি জাতীয় টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত মোট ৪২টি ভিডিও-প্রতিবেদন নির্বাচন করা হয়েছে। মূলত উল্লিখিত সময়ে বিশ্লেষকের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টের নিউজফিডে যে ভিডিওগুলো পাওয়া গিয়েছে, বিশ্লেষণের জন্য শুধুমাত্র সে-ভিডিওগুলো নেওয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণসমূহ শুধুমাত্র নির্বাচিত ভিডিও-প্রতিবেদনগুলোর প্রকাশ্য বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। গবেষণাটি সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষা, উপস্থাপনা এবং বর্ণনাগত বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ। ফলে এখানে কোনো ঘটনার প্রকৃত সত্যতা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের অভিপ্রায় বা সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়নি। যেখানে প্রাসঙ্গিক, সেখানে যোগাযোগ ও গণমাধ্যম গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত তাত্ত্বিক ধারণার আলোকে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের জন্য একটি বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে। এই কাঠামোর উদ্দেশ্য কোনো সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্য বা সম্পাদকীয় অবস্থান নির্ধারণ করা নয় বরং সংবাদ উপস্থাপনার ভাষাগত, বর্ণনাগত এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যকে সুনির্দিষ্ট সূচকের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করা। বিশ্লেষণে প্রধানত শব্দচয়ন, শব্দের পুনরাবৃত্তি, বর্ণনার ধরণ, সংবাদ ফ্রেমিং, উৎস নির্বাচন এবং ভিজ্যুয়াল ফ্রেমিং মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে শব্দ বিশ্লেষণ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিবেদনে কোন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো কতবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে এবং কোন ধরনের অর্থগত শ্রেণিতে (লেক্সিক্যাল ক্যাটাগরি) পড়ে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে শব্দগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যেমন, স্বাভাবিকতা বা রিকভারি লেক্সিকন, যেমন “স্বাভাবিক”, “স্বস্তি”, “আগের রূপে”, “ফিরে এসেছে”, “কর্মচাঞ্চল্য”। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শব্দ , যেমন “নিয়ন্ত্রণ”, “নিরাপত্তা”, “টহল”, “সেনাবাহিনী”, “আইনশৃঙ্খলা”। সহিংসতা-সংক্রান্ত শব্দ, যেমন “নাশকতা”, “দুষ্কৃতিকারী”, “অগ্নিসন্ত্রাস”। ইতিবাচক আবেগসূচক শব্দ, যেমন “ভালো”, “শান্তি”, “আশার আলো”, “প্রাণচাঞ্চল্য” এবং নেতিবাচক আবেগসূচক শব্দ, যেমন “আতঙ্ক”, “ভয়” ও “সহিংসতা”। এসব শব্দের ব্যবহারের হার ও প্রেক্ষাপট একত্রে বিবেচনা করে ভাষাগত প্রবণতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে ন্যারেটিভ অ্যানালাইসিস করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি প্রতিবেদনের প্রধান বার্তা বা কেন্দ্রীয় আখ্যান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিবেদনে “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠছে”, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি”, “জনজীবনে স্বস্তি ফেরা”, “অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালু হওয়া” অথবা “আন্দোলনের কারণে জনদুর্ভোগ” এর মতো কোন আখ্যান প্রাধান্য পেয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই ধরনের আখ্যান কতটা ধারাবাহিকভাবে পুনরাবৃত্ত হয়েছে, তাও বিশ্লেষণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে ফ্রেমিং অ্যানালাইসিস করা হয়েছে। এখানে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, প্রতিবেদনে কোন বিষয়কে প্রধান সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই সমস্যার কারণ হিসেবে কাদের উল্লেখ করা হয়েছে, কার বক্তব্য বা অবস্থানকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে কী ধরনের বার্তা উপস্থাপিত হয়েছে। এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে সংবাদের কাঠামোগত উপস্থাপনা ও গুরুত্ব আরোপের ধরণ মূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।
চতুর্থ ধাপে উৎস নির্বাচন বিশ্লেষণ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, প্রত্যক্ষদর্শী বা ভুক্তভোগী কারা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ছিল, তা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের লক্ষ্য ছিল প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্যসূত্রের বৈচিত্র্য মূল্যায়ন করা।
পঞ্চম ধাপে ভিজ্যুয়াল ফ্রেমিং অ্যানালাইসিস করা হয়েছে। ভিডিও প্রতিবেদনে কোন দৃশ্যগুলো বেশি দেখানো হয়েছে, যেমন যানবাহনের চলাচল, জনসমাগম, বাজার, অফিস-আদালত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল, চেকপোস্ট, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা অথবা আন্দোলনের দৃশ্য তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কারণ দৃশ্যগত উপস্থাপনাও সংবাদ-আখ্যান নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সবশেষে, রিপিটিশন প্যাটার্ন সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। একই শব্দ, একই ধরনের শিরোনাম, অনুরূপ বর্ণনা বা সমজাতীয় দৃশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বা একই সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্ভাব্য কমিউনিকেশন প্যাটার্ন শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণগুলো সংবাদবস্তুর দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে উপস্থাপিত; এগুলো থেকে কোনো সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্য, সমন্বিত পরিকল্পনা বা অভিপ্রায় সম্পর্কে প্রত্যক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এই গবেষণার পরিধির অন্তর্ভুক্ত নয়।
জুলাই গঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমে শব্দের পুনরাবৃত্তিসহ অন্যান্য
১০টি সংবাদ মাধ্যমের (সময় টিভি, একাত্তর টিভি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, এটিএন বাংলা নিউজ, চ্যানেল ২৪, ভোরের কাগজ (লাইভ), দেশ টিভি নিউজ, ডিবিসি নিউজ, এটিএন নিউজ, আরটিভি নিউজ) ১৮ জুলাইয়ের ১টি ফেসবুক পোস্ট, ২৪ জুলাইয়ের ২৫টি, ২৫ জুলাইয়ের ১১টি, ২৭ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নেয়া ৬টি–সর্বমোট ৪২টি ভিডিও-কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংবাদমাধ্যমগুলো আন্দোলনকে দুর্বল হিসেবে উপস্থাপন করতে নিম্নলিখিত শব্দগুলো ব্যবহার করেছে:
আগের তুলনায়, আগের থেকে নিয়ন্ত্রণে আছে, দ্রুত আগের পরিস্থিতিতে, আগের চেহারা, আগের রূপে (৪ বার), চেনা রূপে ফিরছে, চিরচেনা রূপে ফিরছে (৩ বার), স্বরূপে ফিরেছে, পুরোদমে ফিরে আসছে, পুরোদমে কাজ চলছে, বেশ গতিতে, চলছে গণপরিবহন, চালু হল অফিস আদালত, চলাচল করছে, কর্মস্থলে ফিরছে, কাটিয়ে (৪ বার)।
এছাড়া আরও যে শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে: আশার আলো সঞ্চারিত, শঙ্কা নাই, সরব, সরগরম, গুমোট হাওয়া বদলে যায় কর্মজীবীদের কোলাহলে, মুখর, মুখরিত, শান্তি (শান্তি ফেরা বিষয়ক, ৬ বার)।
অবস্থার উন্নতি বোঝাতে জনসমাগম সম্পর্কিত বা বৃদ্ধি সূচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে: বেড়েছে শব্দটি ১৩ বার, চাপ ৩ বার, ভীড় ১৪ বার, ঢল ২ বার, যানজট ১১ বার, তীব্র যানজট ৫ বার, জ্যাম ২ বার। এছাড়া ১ বার করে প্রচুর মানুষ, প্রচুর সংখ্যক গাড়ি, মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে।
আন্দোলন অগ্রাহ্য করে মানুষ কাজ করছে, তা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে: প্রাণচাঞ্চল্য ৩ বার, কর্মচাঞ্চল্য ৫ বার, কর্মচঞ্চল ৪ বার, ব্যস্ত ৪ বার।
দেশে কোনো আন্দোলন চলছে না, কোনো হত্যাযজ্ঞ হয়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক বোঝাতে টিভি মিডিয়াগুলো উক্ত ৪২টি ভিডিও প্রতিবেদনে “স্বাভাবিক” ও “স্বস্তি” শব্দদুটি যথাক্রমে ৭৬ ও ৩২ বার উচ্চারণ করেছে। এছাড়াও “ভালো” ৮ বার ও ১ বার করে উজ্জীবিত, খুশি, অনেক ধন্যবাদ ব্যবহার করেছে, অর্থাৎ ইতিবাচক শব্দ বার বার প্রয়োগ করে বাস্তবতার বিপরীতে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করছিল সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদনের শিরোনাম ও প্রতিবেদনে ব্যবহৃত শব্দে স্পষ্ট হয় “পরিস্থিতি স্বাভাবিক” এই ধারণা দেয়ার চেষ্টা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বার বার করেছে, যেমন, “ঘরবন্দি মানুষ, এর মাঝে খুঁজে নিচ্ছেন স্বস্তি!” (২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি), এ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক ঘণ্টার বিরতিতে রাজধানী হয়ে উঠেছে প্রানোচ্ছল, “সন্তানদের আবদার মেটাতে” মোটরসাইকেলে পিতা ও সন্তান নিয়ে যাওয়ার তিনটি চলচ্চিত্র দেখানো হয়, “বাইরের খোলা হাওয়াতেই যেন তাদের স্বস্তি”; এছাড়া প্রতিবেদক দ্বারা নির্বাচিত জনৈক এক ব্যক্তি জানান, “কারফিউটা উইথড্র করে দেওয়া উচিত যেহেতু সব কিছু জনজীবন একদম নরমাল চলে আসছে”, প্রতিবেদনে আরও জানানো হয় যে, “মানুষ কারফিউ বিরতিতে লেকের পাড়ে বসে আড্ডা দিয়েছেন”। “কয়েকদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সাধারণ ছুটি শেষে চালু হল অফিস আদালত” (এটিএন বাংলা নিউজ) শিরোনামের নিউজে সচিবালয়ে একজনের সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেল, “কর্মী হিসেবে একজন সারাদিন বাসার মধ্যে বন্ধ থাকা এটা তো খুব বোরিং একটা কাজ”, অপরজন বলেন, “এখন অনেক ভালো লাগতেছে অফিসে”। তাছাড়া ওই একই প্রতিবেদনে দুইজন ভারতীয় নাগরিকের টাকা তুলতে যে সমস্যা হচ্ছে, তাও জানানো হয়।
জুলাইয়ে যখন আন্দোলন ভয়াবহভাবে দমন করতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছিলো, সে-সময়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, উক্ত আন্দোলন নাগরিক জীবনে প্রেম ভালোবাসার এক অবারিত দ্বার উন্মেচন করেছিল, কারন “ইন্টারনেট না থাকায় যাপিত জীবনে হঠাৎই ছন্দপতন… বিপরীতে অন্য ছবিও আছে, এই যেমন এই দম্পতির জীবনে যেন নেমে এসেছে প্রেম ভালোবাসার এক অখন্ড অবসর [প্রতিবেদক] আগেতো দিনে ২-৩ বার মোবাইল চার্জ দেয়া লাগতো এমন অবস্থা ছিল এখনতো যেহেতু মোবাইলে দেখার কিছু নাই মোবাইলটা একদিকে পড়ে থাকে, এখন দুই জন দুজনের সাথে সারাটা সময় কাটাই, একসাথে খাই [স্ত্রী] সো এখন যখন আমরা একজন আরেকজনের সাথে বসে কথা বলছি আমরা কমপ্লিট অ্যাটেনশনটা একজন আরেকজনকে দিচ্ছি [স্বামী]” (ইন্টারনেট বিহীন জীবন, আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? ২৪ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪), শুধু তাই নয় প্রতিবেদক আশা প্রকাশ করেছেন, “দিনশেষে সাদাকালো ক্যানভাসের এমন আকাশটাই আবার রঙ্গিন হয়ে উঠুক”, নাগরিক জীবনে প্রেম ভালোবাসার এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য আমরা নিশ্চই জুলাইয়ে আন্দোলনের শত শত লাশের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব, একই সাথে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাব চ্যানেল ২৪কে তা দেখিয়ে দেয়ার জন্য।
উপর্যুক্ত পর্যবেক্ষণের সঙ্গে ধারাবাহিক এরকম আরও ৯টি প্রতিবেদনের নির্বাচিত অংশ উল্লেখ করা হল:
১.
এতদিন কিন্তু আমরা দেখেছি রাজধানীতে এক ধরনের সহিংসতার যে রুপ সে রূপ থেকে কিন্তু কিন্তু পরবর্তীতে মানুষ স্বস্তির রূপে ফিরেছে…ঠান্ডা পরিবেশ বিরাজ করেছিল…নগরীর রূপ আগের রূপে দেখতে পেরেছি…একটা ভয় সে ভয় থেকে মানুষ অনেকটা জয় করে মনে হয় মাঠে নেমেছে এমন এক অবস্থা… আতঙ্কের কারণে তারা বাসা থেকে বের হতে পারেনি বা আসতে পারেনি সেই জন মনের সে আতঙ্কটা যখনই দূর হয়েছে… নাশকতার পূর্ব পরিকল্পনা যদি থেকে থাকে সেক্ষেত্রে কিন্তু তারাও [ডিএমপি] এক ধরনের অবস্থান সরব লক্ষ্য করা যাচ্ছে…যারা এই নাশকতার সাথে জড়িত তারাও এক ধরনের ভয়ে পালাচ্ছে এবং সেক্ষেত্রে নগরের যে স্বস্তি সেই স্বস্তিও ফিরে পাচ্ছে যার কারণে মানুষ খুব সহজে সুন্দরভাবে কিন্তু আগের রূপে তারা যাতায়াত করতে পারছে …(জনসাধারণের স্বস্তি ফিরেছে? ২৪ শে জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি)
২.
কাঁচামরিচের দাম বেড়ে প্রায় ৪০০ টাকা হয়ে আবার অর্ধেক হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদক বিধান বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেই বলে তারা কিন্তু এই কারফিউ শিথিল করেছেন… তারা বলেছেন যে স্বাগত জানিয়েছিল [আদালতের রায়]…কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নেই কখনো মাঝে মাঝে দুই-একটা গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটে …যারা নাশকতাকারী বা যার যারা বিরোধী দল যারা এই কোটা সংস্কারের সাথে যুক্ত হয়ে তারা যে একটা মুভমেন্ট করেছিল বরিশালে…দেখা যাচ্ছে না” [বিধান সরকার]… “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে নিয়মিত টহল যেটি এবং মোড়ে মোড়ে যে সতর্ক অবস্থান সেটির কিন্তু কোনো কমতি নেই…প্রত্যেকটি সড়কে সড়কে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কিন্তু সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে টহল সেটি আমরা দেখছি যে অব্যাহত রয়েছে আগেই বলছিলাম যে এই কারফিউ পরিস্থিতি শিথিলের মধ্যেও কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সেনাবাহিনীর যে টহল সেটির কিন্তু কোনো কমতি নেই অর্থাৎ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যে উদ্যোগ সেটি অব্যাহত রয়েছে…জনমনে স্বস্তি রয়েছে …এবং এই যে এরপর যেটি বলছিলাম যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে টহল এর এটিও কিন্তু একটি জনমনে যে একটি স্বস্তি তাতেও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে…সেই পণ্যের দাম একদিনের ব্যবধানে বলতে পারি যে কাঁচা মরিচ যেটি ৪০০ টাকা কেজিতে উঠেছিল সেটি কিন্তু এক লাফে ৩০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে [বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ]…কারফিউ শিথিল হলেও খুলনার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে আমরা দেখেছি পুলিশের চেকপোস্ট পুলিশ মোতায়ন রয়েছে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যেন কেউ কোনো ধরনের নাশকতা অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড এই সুযোগে ঘটানোর ঘটাতে না পারেন… কোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা না ঘটলেও তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে…খুলনার পুলিশ কমিশনার মোজাম্মেল হোসেন একই কথা বলেছেন খুলনার যে মহানগরীর আটটি থানা রয়েছে সবখানেই তাদের যে গোয়েন্দা টিম তারা নজরদারি করছে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে যেন কেউ কোনো ধরনের নাশকতা ঘটানোর সুযোগ না পান [রকিব উদ্দিন পান্নু]” (জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি)।
৩.
“শিথিল হওয়ায় কারফিউ সাধারণ জনগণের মধ্যে কিন্তু এক ধরনের স্বস্তি এসেছে
এবং সর্বসাধারণ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মুখে কিন্তু হাসি ফুটেছে” (জামালপুরে কারফিউ শিথিল, জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস, ২৪ জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি নিউজ)।
৪.
যখন সংঘাত সহিংসতার ঘটনা ঘটে তো প্রায় আট দশদিন ধরে মোটামুটি মানুষের মনে একটা ভয় এবং ভয় থেকে পরবর্তীতে কারফিউ, কারফিউ থেকে থিতু অবস্থায় আসতে একটু সময় লাগবে…গণপরিবহন বেড়েছে, বেড়েছে মানে কী, গণপরিবহন চলাচল করতে শুরু করেছ…আমি এই ১০ টা সবে মাত্র ৩ বা ৪ বাজে এই সময় আসলে গণপরিবহনে যেমন একটু সংখ্যায় কম ব্যক্তিগত গাড়িসংখ্যা আরো কম…যেটা আমি আগে বলেছি থিতু হতে হয়তো সময় লাগবে হয়তো বুঝবে যে আসলে হয়তো পর্যবেক্ষণ করছে যে এই সময় গাড়ি নামালে কোনো সমস্যা হবে কিনা…আজকে তো প্রথম দিন এগুলো বুঝতে বুঝতে হয়তো সময় লাগবে পরবর্তীতে হয়তো ঠিক হয়ে যায় মানুষের মানে থিতাবস্থা আসবার জন্য …. তারপরেও তো শুরু হয়েছে অনেক কিছুর পরে [মহিম মিজান] অর্থাৎ বলা যায় যে জনজীবন থেকে ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে (ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে জনজীবন, ২৪ জুলাই, ২০২৪, একাত্তর টিভি)।
৫.
এক সপ্তাহ পর আবারো প্রাণ ফিরে পেয়েছে রাজধানী ঢাকা। আন্দোলন, সহিংসতা বা স্থবিরতা চান না রাজধানীবাসি রাষ্ট্রীয় সমস্যার সমাধান রাজপথে নয় আলোচনার মাধ্যমে হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। (টানা তিনদিনের সাধারণ ছুটির পর সব ধরণের অফিস-আদালত খোলায় রাজধানীর সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট, ইয়াসিন রানা, ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ)
৬.
…শিক্ষার্থীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কিন্তু দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং সে সংঘর্ষ কিন্তু একটি পর্যায়ে ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে কিছু দুষ্কৃতিকারীরা
…আন্দোলনকারীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়
…এই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা কিন্তু নেয়া হয় আপনারা আজকের দেখতে পাচ্ছেন যে এখানে কিন্তু গাড়ি চলাচল করছে সাধারণ মানুষ চলছে এবং গণপরিবহন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পরিবহন সবই কিন্তু চলছে আজকে সারাদিনই কিন্তু এই পরিবহন কিন্তু এখানে চলেছে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু গত সপ্তাহে কিন্তু এই এলাকা এই মুহূর্তে বলে সারাদিনই কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে একটি ভয়ঙ্কর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল দেখা কোনো মানুষ কিন্তু এখানে ছিল না দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনকারীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিন্তু সংঘর্ষ বেঁধেছে…
তখন কিন্তু শিক্ষার্থীদের সাথে যে আন্দোলন ছিল সেটি যখন অন্যদিকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বা বিভিন্ন সংঘর্ষকারী গোষ্ঠীরা তারা কিন্তু দেশের ক্ষতি সাধন করার জন্য এই আন্দোলনকে একটু ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল… আজকে কিন্তু সারাদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু স্বাভাবিক ছিল…এই যে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি বিভীষিকাময় সময় কেটে গেল বাংলাদেশের মধ্যে সেই সময় আসলে ভুলার মতো নয় সেগুলোর চিত্র কিন্তু পাল্টে এখন কিন্তু একেবারে ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে সাধারণ মানুষ চলাচলা চলাফেরা করছে যারা দিন মজুর রয়েছেন তারা কিন্তু মাঠে রয়েছে এবং প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কিন্তু আজকে একেবারে স্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন সড়কে যানবাহন চলছে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করছে..
…আজকে একেবারে স্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন সড়কে যানবাহন চলছে সাধারণ মানুষ চলাফেরা করছে তার মধ্য দিয়েও কিন্তু সেনা সদস্য যারা রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা যারা রয়েছেন এবং পুলিশের সদস্যরা কিন্তু পর্যায়ক্রমে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন যে দেশে যেন একটি শান্তি ফিরিয়ে আনা যায় আর যারা এই রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের জন্য কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করে দেশের যে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনাকে পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ক্ষতি করেছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে তাদেরকে কিন্তু দমানার জন্য রাষ্ট্রের যারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তারা কিন্তু কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু সে ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন যে যারা রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করেছেন তাদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না সেই আলোকে কিন্তু বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে মামলাকে কেন্দ্র করে কিন্তু অসংখ্য লোকদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদেরকে কিন্তু আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে….আশা করব আগামী দুই একদিনের মধ্যে দেশের পরিস্থিতি আরো ভালো হবে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে মানুষের মধ্যে প্রশান্তি ফিরে আসবে এমনটাই কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যে প্রত্যেকটি জায়গায় কিন্তু একটি শান্তি ফিরে এসেছে…. এই যে আপনাদেরকে একটি বিষয় দেখাবো যে এখন কিন্তু সড়কে একেবারে মানুষের শান্তি এবং নিরাপদভাবে চলাফেরা করছে … এখন কিন্তু একটি জনমনে শান্তি ফিরে এসেছে ….আগামীকাল থেকে দেশে আরো শান্তি ফিরে আসবে মানুষ …নৈরাজ্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না হয়… সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় কিন্তু সরকারের যারা উর্ধতন কর্মকর্তা রয়েছেন প্রশাসনিক থেকে শুরু করে মন্ত্রী মহোদয় যারা রয়েছেন তারা কিন্তু সর্বাত্মক মানুষের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন…
(কারফিউ চললেও জনমনে স্বস্তি, শেখ ফরিদ, ২৪ জুলাই ২০২৪, ভোরের কাগজ লাইভ)
৭.
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে রাজধানীর ঢাকার সাথে বিভিন্ন জেলার যান চলাচল ঢাকা চট্টগ্রাম সড়কে প্রায় স্বাভাবিকভাবে চলছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন পুড়িয়ে দেয়া যাত্রাবাড়ি টোল প্লাজায় কর্মীরা টোল আদায় করছেন ম্যানুয়ালি তরিক ইসলামের রিপোর্ট। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি টোল প্লাজা দুর্বৃত্তদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এ স্থাপনা দেখেই বোঝা যায় নাশকতা কতটা ভয়াবহ ছিল… দেশ জুড়ে চলমান কারফিউ এর পঞ্চম দিনে অনেকটা স্বাভাবিক যাত্রাবাড়ি এলাকার যান চলাচল জনমানে কিছু কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও কাটেনি আতঙ্ক সবারই প্রত্যাশা দ্রুতই স্বাভাবিক হবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি (রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের তীব্র যানজট দূরপাল্লার বাঁধ, ২৪ জুলাই ২০২৪, তরিক ইসলাম, এটিএন বাংলা)।
৮.
আন্দোলন সংঘর্ষ সহিংসতা কারফিউ এক সপ্তাহের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি অফিস আদালত খুলতেই রাজপথের গুমোট হাওয়া বদলে যায় কর্মজীবীদের কোলাহলে [মাকসুদুন্নবী] …“আসলে এই কয়দিন দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল এখন দেশের পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো হয়েছে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে [নির্বাচিত ব্যক্তি ১] একটু আগে যদি মেনে নিত তাহলে হয়তোবা আমাদের যে আমরা যারা স্টুডেন্ট আছে তাদের হয়তোবা এতগুলা প্রাণঘাতী হতো না আর হয়তোবা আমাদের দেশে যে ক্ষয়ক্ষতিটা হয়েছে হয়তোবা জনজীবন যেভাবে থেমে গেছে এটা হয়তোবা আরো আগে সব ঠিক হয়ে যেত [নির্বাচিত ব্যক্তি ২] তো আমরা চাই হচ্ছে কারো জীবন যাতে আর না যাক আমাদের অর্থনৈতিক এরপর হচ্ছে আমাদের জনসাধারণের যাতে আর কোনো ক্ষতি না আসুক এটাই চাই [নির্বাচিত ব্যক্তি ৩]”
…একদিকে বন্ধ মেট্রো রেল অন্যদিকে খোলা নেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তার উপর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা ইস্যুতে গাড়ি চলাচলের মানা এমন অবস্থায় সপ্তাহখানিক পর পথে বেরিয়ে ভোগান্তে পিছু ছাড়েনি সাধারণ মানুষ….এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ থাকায় সব প্রাইভেট কার চলছে মূল সড়কে ফলে রাস্তার দুপাশে ছড়িয়ে পড়ে দীর্ঘ জানজট…প্রতিদিন তিন লাখ মানুষ চলাচল করতো মেট্রো রেলে কিন্তু নাশকতার পর তা বন্ধ থাকায় এত মানুষের যাওয়া আশায় কষ্টের শেষ ছিল না বিশেষ করে মিরপুরের যাত্রীদের [মাকসুদুন্নবী], “আমরা যারা মেট্রোতে রেগুলার চলাফেরা করি বাসে আসলে এত সময় নিচ্ছে এত জ্যামের মধ্যে অনেক বেশি আর কি হ্যাসেল ইয়ে করতে হচ্ছে [নির্বাচিত ব্যক্তি ৪] মেট্রোরেলে চলাচলা করছি মনে করেন শান্তি পর্যন্ত যাইয়া পৌঁছে গেছি ১০ মিনিট…লাগছে সময় লাগে না বেশি তখন তো জামের ভিতরে পড়ে রয়েছে এক ঘন্টা সিস্টেম [নির্বাচিত ব্যক্তি ৫]”
সীমিত পরিসরে অফিস খোলার প্রথম দিনই যে দুর্ভোগ ছিল নগর জুড়ে তা ভাবিয়েছে নাগরিক জীবনকে তাই অপেক্ষা সবকিছু স্বাভাবিক হবার। (অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি; জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমে পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তি, মাকসুদুন্নবী, ২৪ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪, চ্যানেল ২৪)।
৯.
কারফিউ শিথিল করায় প্রায় স্বাভাবিক দেশ… ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য ফলে সড়ক মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ কাজে বের হতে পেরে স্বস্তিতে জনসাধারণ [পাঠিকা]। কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় কারফিউ জারির ষষ্ঠ দিন। পর্যায়ক্রমে সময় বাড়িয়ে কারফিউ শিথিল করায় আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক রূপে ফিরছে জনজীবন। ফিরে এসেছে পুরনো কর্ম চঞ্চল চেহারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একেবারেই স্বাভাবিক খুলনা নগরী। অফিসের পাশাপাশি কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে আদালত পাড়ায়। কর্মতৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে সবার মাঝে [প্রতিবেদক]।
“প্রশাসন আরেকটু নমনীয় হইলে মানুষজন একটু স্বস্তিতে আরো রাস্তায় বের হইতে পারে কাজ কর্মক্ষেত্রে বের হইতে পারে” [নির্বাচিত ব্যক্তি ১]।
চট্টগ্রামের পোশাক কারখানার পাশাপাশি অন্যান্য কারখানা ও অফিসে স্বাভাবিকভাবেই যোগ দিয়েছেন কর্মজীবীরা গেল কয়েকদিনের তুলনায় সড়কে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা ছাড়ছে দূরপাল্লার বাস ও যানবাহন [প্রতিবেদক]।
“কালকেও আমি অফিস করছি আজকে মোটামুটি দিন দিন স্বাভাবিক হচ্ছে এটা দেশের জন্য মঙ্গল সবার জন্য মঙ্গল” [নির্বাচিত ব্যক্তি ২]
…কারফিউ শিথিল করায় বেড়েছে নাগরিক ব্যস্ততা। বিভিন্ন বিপনিবিতান ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে ফিরেছে প্রাণ চাঞ্চল্য।
“জ্বালাও পোড়াও আমরা চাই না আমরা চাই আমরা নাগরিক হিসেবে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে” [নির্বাচিত ব্যক্তি ৩], “কারফিউ ছাড়াই বর্তমানে ভালো হয়েছে দোকানে আসছি খুব ভালো লাগতেছে” [নির্বাচিত ব্যক্তি ৪]।
আতঙ্ক কাটিয়ে নরসিংদীতে বিভিন্ন সড়ক এবং দোকানপাটে ক্রমেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি। ঢাকা সিলেট মহাসড়কেও স্বাভাবিকভাবেই চান চলাচল করতে দেখা গেছে। ফলে অনেকটাই কমেছে ভোগান্তি।
মাদারীপুরে আন্দোলন ঘিরে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। সরকারি অফিস ও আদালতে সেবাগ্রহীতাদের ভিড় দেখা গেছে। সবকটি রুটে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক। ময়মনসিংহের স্বাভাবিক জনজীবন বাড়তি সতর্কতার জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে (কারফিউ শিথিল করায় প্রায় স্বাভাবিক দেশ,অর্ঘ মিত্র তরফদার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ডিবিসি নিউজ)।
এছাড়া সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সেজন্য “গ্রেফতার” (উক্ত ৪২ ভিডিওতে ৮ বার), “আটক” করতে ও “ধরতে” আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কাজ করছে, তা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
পরিস্থিতি “স্বাভাবিক” করতে ও “নিয়ন্ত্রণে” নিতে—অর্থাৎ আন্দোলন দমন করতে—আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সফলতা নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিতে, প্রশংসা করতে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের শোনা যায় (framing: emphasis), যেমন টিভিতে বলা হয় — সেনাবাহিনী ভালো নিরাপত্তা দিচ্ছে এরকম বাহিনী দেখা যায় না (নির্বাচিত ব্যক্তি, ডিবিসি নিউজ), পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন), সেনাবাহিনী ভালোভাবে এটা মেইনটেইন করতেছে (নির্বাচিত ব্যক্তি, এটিএন বাংলা নিউজ), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় স্বরূপে ফিরেছে রাজধানী (দেশ টিভি), তারা [পুলিশ] আসলে কিন্তু যাত্রীদেরকে নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য সকাল থেকে কাজ করে চলছেন… নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে বেশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি, বিভিন্ন চেকপোষ্টে সেনাবাহিনীও রয়েছে (গণপরিবহনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, ৩০ জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি), গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এখনো রয়েছে তো সব মিলিয়ে রাজশাহীর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক (একাত্তর টিভি)।
কিন্তু কাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে? বিএনপি জামায়েতকে (৩ বার উল্লেখ করা হয়েছে), কেন? মিডিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, “নাশকতা” (৭ বার উল্লেখ করা হয়েছে) করা হচ্ছে তাই। কিন্তু আন্দোলন, বা আওয়ামী লীগের হত্যাযজ্ঞের খবর এসব ভিডিও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মহিমান্বিত করার নমুনা হিসেবে দুইটি প্রতিবেদনের অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো:
১.
যখনই বাংলাদেশে কোনো অশুভ শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে তখনই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্থিতিশীলতা আনতে বারবার সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, কোটা আন্দোলনকারীদের উপর ভর করে যারা গত কয়েকদিন সারাদেশে সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তাদেরকেই নিবৃত্ত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে (২০ জুলাই : ঢাকা, রাজধানী জুড়ে সেনা টহল, “কারফিউ” মনে করালো করোনার “লকডাউন”! মহিম মিজান, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি)।
২.
সেই সংঘর্ষকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিন্তু রাষ্ট্রের যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন তারা কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীদের সর্বোত্তক ব্যবহার করেছেন….এখনো পর্যন্ত কিন্তু সেনা সদস্যরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন …রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি করে এবং সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আজকে কিন্তু পাঁচ দিন অতিক্রম করছে সরকারের পক্ষ থেকে কারফিউ জারি করা হয় এবং কারফিউ জারি করার পর কিন্তু সামরিক সেনা সদস্য কিন্তু প্রত্যেকদিন তাদের অবস্থান থেকে দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কিন্তু এই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং যখন সেনা সদস্যরা মাঠে নামে… এবং যারা সেনা সদস্যরা রয়েছেন তারা কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দিনের চেষ্টায় কিন্তু দেশে একটি শান্তি ফিরে আনার জন্য সর্বোত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে
…সেই রায়ের পরে কিন্তু পর্যায়ক্রমে যারা সেনা সদস্য রয়েছেন বিজিবি রয়েছেন এবং পুলিশের যারা সদস্য রয়েছেন তাদের কঠিন চেষ্টা এবং রাষ্ট্রের যারা নীতি নির্ধারকরা রয়েছেন এবং মন্ত্রীরা রয়েছেন তাদের কঠোর চেষ্টায় কিন্তু এখন এই রাষ্ট্রে একটু শান্তি ফিরে আসছে এবং জনমনে একটি প্রশান্তি ফিরে পাচ্ছে…এই যে কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রে যারা একটি সংঘর্ষ করে রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করেছিল যে সকল দুষ্কৃতিকারীরা রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করে রাষ্ট্রকে একটি বিভীষিকাময় অধ্যায় তৈরি করেছিল তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে কাজ করছে এবং পর্যায়ক্রমের মামলা হচ্ছে এবং তাদেরকে কিন্তু গ্রেপ্তারও চলছে এবং এ কার্যক্রম কিন্তু অব্যাহত তারা রেখেছে এবং…(কারফিউ চললেও জনমনে স্বস্তি, শেখ ফরিদ, ২৪ জুলাই ২০২৪, ভোরের কাগজ লাইভ)।
পর্যালোকৃত ৪২টি ভিডিও কন্টেন্টের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. পদ্মা সেতু দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক, ১৮ জুলাই ২০২৪, somoynews.tv (ফেসবুক)।
২. “কারফিউ” মনে করালো করোনার “লকডাউন”! ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩. স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন, বগুড়া, ২৪ জুলাই ২০২৪, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।
৪. সারা দেশের পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, বগুড়া কারফিউ, ২৪ জুলাই ২০২৪, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।
৫. জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৬. স্বাভাবিক হচ্ছে চট্টগ্রাম-রাজশাহী, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৭. ধীরে ধীরে সচল হতে শুরু করেছে জনজীবন, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৮. কারফিউ শিথিল হওয়ায় রাজধানীতে সকাল থেকে চলছে গণপরিবহন, ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ।
৯. সিলেটে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
১০. অফিস খোলায় চাপ বেড়েছে সড়কে, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
১১. ঘরবন্দি মানুষ, এর মাঝে খুঁজে নিচ্ছেন স্বস্তি! ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
১২. টানা তিন দিনের সাধারণ ছুটির পর ধরনের অফিস-আদালত খোলায় রাজধানীর সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট, ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ।
১৩. রাস্তায় যানবাহন কম, হেঁটে কর্মস্থলে যাচ্ছে অনেকে, ২৪ জুলাই ২০২৪, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।
১৪. চট্টগ্রামের স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, বন্দর নগরীর সর্বশেষ পরিস্থিতি কি? ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ।
১৫. আগের মতোই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরেছে রাজধানীর ফার্মগেট, ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ।
১৬. জামালপুরে কারফিউ শিথিল, জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস, ২৪ জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি নিউজ ।
১৭. অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি; জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমে পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তি, ২৪ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪।
১৮. কয়েক দিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সাধারণ ছুটি শেষে চালু হল অফিস আদালত, ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ।
১৯. পাঁচ দিন পরে খুলল অফিস, তীব্র যানজট রাজধানীতে, ২৪ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
২০. কারফিউ চললেও জনমনে স্বস্তি, ২৪ জুলাই ২০২৪, ভোরের কাগজ (লাইভ)।
২১. রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট, ছাড়ছে দূরপাল্লার বাস, ২৪ জুলাই ২০২৪, এটিএন বাংলা নিউজ।
২২. কারফিউ শিথিলে জনসাধারণের স্বস্তি ফিরেছে? ২৪ জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি নিউজ।
২৩. পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি! ২৪ জুলাই ২০২৪, আর টিভি।
২৪. কারফিউর শিথিলতায় চাপ বেড়েছে সড়কে, ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
২৫. ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ভোলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি, ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
২৬. চাঁদপুর থেকে চলছে লঞ্চ, উপচে পড়া ভিড়, ২৫ জুলাই ২০২৪, সময় ন্যাশনাল।
২৭. চাঁদপুর থেকে চলছে লঞ্চ, উপচে পড়া ভিড়, ২৫ জুলাই ২০২৪, somoynews.tv (ফেসবুক)।
২৮. ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন; দ্বিতীয় দিনও বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট, ২৫ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪।
২৯. ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে সিলেট শহর, ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩০. সড়কে বেড়েছে সব ধরনের যান চলাচল, ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩১. কারফিউ শিথিল করায় প্রায় স্বাভাবিক দেশ, ২৫ জুলাই ২০২৪, ডিবিসি।
৩২. কারফিউ শিথিলে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩৩. কারফিউ-সেনাটহলে হলে অচেনা ঢাকা; কেউ ব্যস্ত ক্রিকেটে,কেউবা ফুটবলে, ২৫ জুলাই ২০২৪, এটিএন নিউজ।
৩৪. স্থবির রাজশাহীতে ব্যবসায়িক ক্ষতি ৫০০ কোটি টাকা! ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩৫. জিআই স্বীকৃতিতে বাড়ছে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গয়নার গুরুত্ব! ২৫ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩৬. বাইতুল মোকাররম এলাকায় প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি, ২৬ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪।
৩৭. কারফিউ শিথিলে খুলেছে রাজধানীর বিপণিবিতান, ২৭ জুলাই ২০২৪, এটিএন নিউজ।
৩৮. স্বাভাবিক হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি, ২৮ জুলাই ২০২৪, একাত্তর টিভি।
৩৯. স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, তিন দিন অফিস চলবে ৬ ঘন্টা, ২৮ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪।
৪০. কারফিউ শিথিলে চিরচেনা রূপে ফিরছে সারা দেশ, ২৯ জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি নিউজ।
৪১. গণপরিবহনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, ৩০ জুলাই ২০২৪, দেশ টিভি নিউজ।
৪২. পূর্বে সময়সূচীতে ফিরেছে অফিস-আদালত, ব্যাংকে গ্রাহকের ভিড়, ৩১ জুলাই ২০২৪, চ্যানেল ২৪। ৪২ টি ভিডিওর তালিকা সমাপ্ত।