২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কালবেলা একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল “পুলিশ হত্যা’রও তদন্ত হবে?”। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৯ দিনের মধ্যে। ভিডিওতে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের অভ্যুত্থানকালীন সহিংসতার প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা এবং নতুন সরকারের “গ্রীন সিগনালকে” কেন্দ্র করে তদন্ত শুরুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই বিশ্লেষণে প্রতিবেদনের উৎস ব্যবহারের ধরন, ভাষা, ভিজ্যুয়াল নির্বাচন, সংখ্যাগত উপস্থাপন, ফ্রেমিং এবং রাজনৈতিক টাইমিং মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি মিক্সড মেথড পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পরিমাণগত অংশে উৎসের সংখ্যা, পক্ষভিত্তিক হতাহতের উল্লেখ, আবেগঘন শব্দের ব্যবহার এবং দৃশ্য নির্বাচনের ধরণ গণনা করা হয়েছে। গুণগত অংশে ফ্রেমিং বিশ্লেষণ, ন্যারেটিভ কাঠামো, ভিক্টিম উপস্থাপন এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ভিডিও প্রতিবেদনে একাধিকবার “পুলিশ সূত্র জানায়” “এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন”, “গোয়েন্দারা মনে করছেন” ধরনের বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তার নাম, পদবি, লিখিত বিবৃতি বা ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়নি। তদন্তের নির্দেশনা সম্পর্কেও কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন বা অফিসিয়াল ব্রিফিং ফুটেজ দেখানো হয়নি।
এ ধরনের উৎস ব্যবহারে দায়বদ্ধতা সীমিত থাকে এবং যাচাইয়ের সুযোগ সংকুচিত হয়। পাঠক বা দর্শক জানতে পারে না বক্তব্যটি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা দিয়েছেন, তা প্রত্যক্ষ তথ্য নাকি অনুমানভিত্তিক মতামত। ফলে প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা কমে যায় এবং “পুলিশ সূত্র” একটি অজ্ঞাত সমষ্টিগত পরিচয় হিসেবে কাজ করে। এখানে উৎস বৈচিত্র্যও সীমিত। রাষ্ট্রীয় বা পুলিশ সংক্রান্ত সূত্র ছাড়া কোনো স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা, আইন বিশেষজ্ঞ, আন্দোলনকারী পক্ষ বা নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থার মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
| উপাদান | প্রাপ্ত স্কোর | কারণ |
|---|---|---|
| নামযুক্ত কর্মকর্তা | 0 | কোনো নাম বা পদবি নেই |
| সরাসরি উদ্ধৃতি | 0 | নির্দিষ্ট উদ্ধৃতি অনুপস্থিত |
| অফিসিয়াল ডকুমেন্ট | 0 | প্রজ্ঞাপন/নথি দেখানো হয়নি |
| স্বাধীন সূত্র | 0 | বিকল্প উৎস নেই |
| দায়বদ্ধতার ইঙ্গিত (সূত্র উল্লেখ) | 0.৩ | “পুলিশ সূত্র” উল্লেখ আছে কিন্তু অজ্ঞাত |
এই প্রতিবেদনের উৎস স্বচ্ছতা মূল্যায়নে যাচাই করা হয়েছে ব্যবহৃত সূত্রগুলো কতটা শনাক্তযোগ্য, দায়বদ্ধ এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য। বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, নামযুক্ত কোনো কর্মকর্তা বা নির্দিষ্ট পদবি উল্লেখ আছে কি না, সরাসরি উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে কি না, অফিসিয়াল নথি, প্রজ্ঞাপন বা লিখিত নির্দেশনার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে কি না এবং রাষ্ট্রীয় সূত্রের পাশাপাশি কোনো স্বাধীন বা বিকল্প সূত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না।
প্রথমে দেখা হয়েছে প্রতিবেদনে ‘পুলিশ সূত্র’ বা ‘এক কর্মকর্তা’ বলার পাশাপাশি কোনো নাম, পদবি, ইউনিট/দপ্তর উল্লেখ আছে কি না। নাম বা নির্দিষ্ট পদবি থাকলে সূত্র শনাক্তযোগ্য হয় এবং দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। এই প্রতিবেদনে কোনো নাম বা নির্দিষ্ট পদবি না থাকায় এই উপাদানে স্কোর ০ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে যাচাই করা হয়েছে কোনো বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে কি না, যাতে বোঝা যায় ঠিক কী বলা হয়েছে এবং সেটা কতটা নির্ভুলভাবে উপস্থাপিত। সরাসরি উদ্ধৃতি থাকলে বক্তব্য বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং ভেরিফিকেশন সহজ হয়। এখানে নির্দিষ্ট কারও হুবহু উদ্ধৃতি অনুপস্থিত থাকায় এই উপাদানে স্কোর ০ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে দেখা হয়েছে তদন্ত ‘গ্রীন সিগনাল’, ‘বিশেষ টিম’, ‘মামলা হবে’ ইত্যাদি দাবির পক্ষে কোনো প্রজ্ঞাপন, লিখিত নির্দেশনা, প্রেস ব্রিফিং, জিডি/এফআইআর নম্বর কিংবা অফিসিয়াল নথির উল্লেখ বা ভিজ্যুয়াল আছে কি না। নথি থাকলে তথ্যের ভিত্তি শক্ত হয়। এই প্রতিবেদনে এ ধরনের কোনো নথি বা রেফারেন্স না থাকায় এই উপাদানে স্কোর ০ দেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ ধাপে যাচাই করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় উৎস ছাড়াও কোনো স্বাধীন সূত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না। একাধিক উৎস থাকলে দাবির ভারসাম্য ও যাচাইযোগ্যতা বাড়ে। এখানে রাষ্ট্রীয় সূত্র ছাড়া অন্য কোনো উৎস নেই, তাই এই উপাদানেও স্কোর ০ দেওয়া হয়েছে।
সব উপাদান অনুপস্থিত হলেও প্রতিবেদনে অন্তত “পুলিশ সূত্র” বলে একটি সূত্র দেওয়া হয়েছে, যদিও তা অজ্ঞাত এবং যাচাই-অযোগ্য। তাই এটিকে সম্পূর্ণ শূন্য না ধরে সীমিতভাবে আংশিক স্কোর দেওয়া হয়েছে, কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তত বলছে। এই কারণে এই অংশে স্কোর ০.৩ বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও এটা আংশিক স্বীকৃতি, পূর্ণ স্বচ্ছতা নয়।
এই পাঁচটি উপাদান মিলিয়ে উৎস স্বচ্ছতা সূচকের সর্বোচ্চ স্কোর ধরা হয়েছে ২। উল্লিখিত মূল্যায়নে প্রতিবেদনের প্রাপ্ত স্কোর দাঁড়ায় ০.৩। ফলে এসটিআই স্কোর ০.৩/২, যা নির্দেশ করে প্রতিবেদনে উৎস ব্যবহারের স্বচ্ছতা অত্যন্ত সীমিত। সূত্র শনাক্ত করা যায় না, ডকুমেন্টেশন নেই এবং স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়নি।
এদিকে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন, ৫০টির বেশি থানায় হামলা হয়েছে এবং ২১৬টি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নির্দিষ্টভাবে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে একই সময়ে আন্দোলনকারীদের নিহত হওয়ার সংখ্যা, আহতের সংখ্যা বা পুলিশি গুলিতে প্রাণহানির প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ২০২৪ সালের সহিংসতার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়নি। এই অসম উপস্থাপনা এক পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান এবং অন্য পক্ষের তথ্য অনুপস্থিত থাকে। এতে সাধারণ দর্শকদের সামনে সহিংসতার একমুখী ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রতিবেদনে “ধ্বংসলীলা”, “তাণ্ডব”, “সুপরিকল্পিত মিশন” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো তথ্যভিত্তিক বর্ণনার পরিবর্তে আবেগ-উদ্দীপক ভাষার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষত “সুপরিকল্পিত মিশন” শব্দবন্ধটি তদন্ত শুরুর আগেই ঘটনার একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠা করে। একইভাবে “রাঘব বোয়াল” বা “থ্রিলার তদন্ত” ধরনের ভাষা রিপোর্টিংকে নাটকীয় রূপ দেয়। এ ধরনের ভাষা ব্যবহার সংবাদ প্রতিবেদনকে বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা থেকে আবেগঘন ন্যারেটিভে রূপান্তর করতে পারে। এছাড়াও , “দরজায় কড়া নাড়তে তৈরি হচ্ছে বিশেষ টিম” লাইন ব্যবহার করে একটা আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও প্রতিয়মান হয়েছে।
ভিডিওতে উত্তেজিত জনতার দৃশ্য, জ্বলন্ত স্থাপনা, পোড়া যানবাহন এবং সশস্ত্র পুলিশ লাইনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ভিজ্যুয়াল নির্বাচন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে পুলিশ সংগঠিত ও প্রতিরক্ষামূলক এবং জনতা বিশৃঙ্খল ও আক্রমণাত্মক হিসেবে প্রতিভাত হয়। আন্দোলনকারীদের নিহত হওয়ার দৃশ্য বা পুলিশি অভিযানের ভিজ্যুয়াল অনুপস্থিত। এই নির্বাচনী দৃশ্য ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যদের ভিক্টিম হিসেবে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু অন্য ক্ষতিগ্রস্তদের চিত্রায়ন হয়নি। এছাড়াও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দেয়া হয়েছিলো, এমনভাবে যাতে ভাষার সাথে মিলিয়ে শুধু পুলিশকেই ভিক্টিম হিসেবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ৯ দিনের মধ্যে। প্রতিবেদনের কেন্দ্রে রয়েছে নতুন সরকারের “গ্রীন সিগনাল”। এতে পুরনো অন্তর্বর্তী সরকারকে নিষ্ক্রিয় এবং নতুন সরকারকে কার্যকর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে পুলিশ সদস্যদের এককভাবে ভিক্টিম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের প্রাণহানি বা মানবাধিকার প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়নি। এ ধরনের একপাক্ষিক ভিক্টিম ফ্রেমিং দর্শকের সহানুভূতির দিকনির্দেশ করে।
এই ভিডিও প্রতিবেদনটি আইন-শৃঙ্খলা ও তদন্ত বিষয়ক সংবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও উৎসের অস্বচ্ছতা, ডকুমেন্টেশনের অনুপস্থিতি, সংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা এবং আবেগঘন ভাষা ব্যবহারের কারণে এটি একটি রাষ্ট্রকেন্দ্রিক ন্যারেটিভকেই শক্তিশালী করেছে বলে দৃশ্যমান হয়েছে।
| সূচক | স্কোর (০–২) |
|---|---|
| উৎস স্বচ্ছতা | ০.৩ |
| হতাহতের ভারসাম্য | ০.০ |
| ভাষার আবেগঘনতা | ০.৪ |
| ভিজ্যুয়াল ফ্রেমিং পক্ষপাত | ০.৩ |
| ন্যারেটিভ সামঞ্জস্য | ০.৫ |
কাঠামোগত মূল্যায়নে পাঁচটি পৃথক সূচক ব্যবহার করা হয়েছে, উৎস স্বচ্ছতা সূচক , হতাহতের ভারসাম্য সূচক , ভাষার আবেগঘনতা সূচক , ভিজ্যুয়াল ফ্রেমিং পক্ষপাত সূচক এবং ন্যারেটিভ সামঞ্জস্য সূচক । প্রতিটি সূচক ০ থেকে ২ স্কেলে পরিমাপ করা হয়েছে, যেখানে ০ নির্দেশ করে উচ্চমাত্রার একপাক্ষিকতা বা অস্বচ্ছতা, ১ নির্দেশ করে আংশিক ভারসাম্য, এবং ২ নির্দেশ করে তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন।
উৎস স্বচ্ছতা সূচক নির্ধারণে যাচাই করা হয়েছে প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সূত্র কতটা শনাক্তযোগ্য ও যাচাইযোগ্য। এতে দেখা হয়েছে, নামযুক্ত কর্মকর্তা বা নির্দিষ্ট পদবি উল্লেখ আছে কি না, সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে কি না, অফিসিয়াল নথি বা প্রজ্ঞাপন দেখানো হয়েছে কি না, এবং স্বাধীন বা বিকল্প সূত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না। প্রতিটি উপাদানকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে সমষ্টিগত স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিবেদনে কেবল “পুলিশ সূত্র” উল্লেখ আছে কিন্তু কোনো নাম, নথি বা স্বাধীন যাচাই নেই, তাই এই সূচকে স্কোর হয়েছে ০.৩/২, যা উৎস ব্যবহারে কাঠামোগত অস্বচ্ছতা নির্দেশ করে।
হতাহতের ভারসাম্য সূচক মাপতে দেখা হয়েছে সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি কতটা সমভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রতিবেদনে শুধুমাত্র পুলিশ নিহতদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারী বা অন্য কোনো পক্ষের প্রাণহানির তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে একপাক্ষিক ক্যাজুয়ালিটি রিপোর্টিং হওয়ায় এই সূচকে স্কোর হয়েছে ০/২, যা সম্পূর্ণ একমুখী উপস্থাপন নির্দেশ করে।
ভাষার আবেগঘনতা সূচক নির্ধারণে প্রতিবেদনের মোট বাক্যের তুলনায় আবেগঘন বা নাটকীয় শব্দের উপস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। “সলীলা”, “তাণ্ডব”, “সুপরিকল্পিত মিশন”, “রাঘব বোয়াল” এবং “থ্রিলার তদন্ত” ধরনের শব্দের ব্যবহার রিপোর্টিংকে বর্ণনামূলক বা নাটকীয় রূপ দিয়েছে। বাক্যসংখ্যার অনুপাতে এসব শব্দের ঘনত্ব বিবেচনায় এই সূচকে স্কোর হয়েছে ০.৪/২, যা উচ্চমাত্রার আবেগনির্ভর ভাষা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
ভিজ্যুয়াল ফ্রেমিং পক্ষপাত সূচক নির্ধারণে ভিডিওতে ব্যবহৃত দৃশ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পুলিশকে সংগঠিত ও ভিক্টিম হিসেবে এবং জনতাকে সহিংস হিসেবে দেখানো হয়েছে কি না, বিকল্প প্রেক্ষাপটের দৃশ্য আছে কি না এবং সহিংসতার সামগ্রিক চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে কি না। যেহেতু আন্দোলনকারীদের ক্ষয়ক্ষতির ভিজ্যুয়াল অনুপস্থিত এবং বাছাই করা দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এই সূচকে স্কোর হয়েছে ০.৩/২, যা বাছাই করা ভিজ্যুয়াল জোর নির্দেশ করে।
ন্যারেটিভ সামঞ্জস্য সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে প্রতিবেদনটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের সাথে কাঠামোগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। এখানে দেখা গেছে নতুন সরকারকে তদন্তে সক্রিয় ও পূর্ববর্তী সরকারকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরুর আগেই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত মিশন’ হিসেবে ফ্রেম করা হয়েছে। এই উপাদানগুলোর ভিত্তিতে ন্যারেটিভ সামঞ্জস্য সূচকে স্কোর হয়েছে ০.৫/২, যা রাজনৈতিক ফ্রেমিংয়ের উপস্থিতি নির্দেশ করে।
এই পাঁচটি সূচকের গড় স্কোর দাঁড়িয়েছে প্রায় ০.৩০/২। স্কোরিং কাঠামো অনুযায়ী ০–০.৫ মানে উচ্চমাত্রার কাঠামোগত পক্ষপাত, ০.৫–১ মানে আংশিক ভারসাম্যহীনতা, ১–১.৫ মানে মাঝারি ভারসাম্য এবং ১.৫–২ মানে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপন। সুতরাং সার্বিক স্কোর নির্দেশ করে যে প্রতিবেদনটি একাধিক মাত্রায় কাঠামোগত ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত এবং ন্যারেটিভ-চালিত উপস্থাপনার প্রবণতা দৃশ্যমান।