বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর (বিডিএমএম) জানতে পেরেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদকে নিয়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি ওয়াদায় একটি মতামত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিডিএমএমের পক্ষ থেকে দ্য ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি। ফলে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ জানা যায়নি।
ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বেঙ্গল লেন্স জানাচ্ছে, ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট রাত ১১ টার দিকে ‘ব্রিজিং দ্য গ্যাপ’ শিরোনামে লেখাটি প্রকাশিত হয় বলে জানা গেছে। পরে কখন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংবাদটি পড়তে গিয়ে খুঁজে পাননি এমন একজনের বরাত দিয়ে লেখক বেঙ্গল লেন্সকে জানিয়েছেন ২৪ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে এটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই ‘মন্তব্য প্রতিবেদন’ এর লেখক ছিলেন জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর বড় ছেলে মোহাম্মদ নকিবুর রহমান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট পেমব্রোকে ফিন্যান্সের অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র।
এ বিষয়ে বেঙ্গল লেন্সকে লেখাটির লেখক মোহাম্মদ নকিবুর রহমান জানিয়েছেন, ‘আমার মতামতটি সরিয়ে নেওয়ার পর সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি ওখানে আপত্তিকর বা মানহানিকর তেমন কিছু লিখি নাই। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছি মাত্র।
কোনো কারণ জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
লেখাটি সরাতে কোন হুমকি দেয়া হয়েছিলো কিনা জানতে যোগাযোগ করা হলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, পত্রিকার মালিকানা প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করেছে তারা। কিন্তু কোন ভয়-ভীতি তারা দেখাননি লেখা সরানোর জন্য। বরং তারা জানতে চেয়েছেন, এমন ‘এআই জেনারেটেড’ ইস্যু নিয়ে একটি লেখা প্রকাশের আগে তারা ক্রসচেক করেছেন কিনা? যার উত্তর দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর দেখতে পান, লেখাটি সাইটে নেই। কিন্তু ইব্রাহিমের কমিউনিকেশন টিমের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে, লেখাটি রাখা বা না রাখা নিয়ে কোন কথাই বলা হয়নি।
এমজিএইচ গ্রুপের একটি সূত্রে এই আলাপের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলেও কি আলাপ হয়েছে তা জানা যায়নি। এমজিএইচ গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে ‘আলোচিত’ ব্যবসায়ি আনিস আহমেদ গোর্কি । অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছিলো। যা থেকে তিনি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মুক্তি পান।