৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট পেজ RTNews24 একটি ছবি সহ একটি পোস্ট প্রকাশ করে, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানকে পরপর দুইবার সালাম দিয়েছেন। পোস্টটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া দেয়।
পরবর্তীতে পোস্টটির ছবি, ক্যাপশন এবং উপস্থাপনায় একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন পর্যায়ে ছবির পরিবর্তন, ক্যাপশন সম্পাদনা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংযোজনের ফলে পোস্টটির উপস্থাপিত ন্যারেটিভেও পরিবর্তন ঘটে। এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন, ভিজ্যুয়াল ব্যবহার এবং পরবর্তী সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য কেস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর পোস্টটির প্রকাশ, পরিবর্তন এবং প্রচারের ধরণ পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই রিপোর্টের মাধ্যমে ঘটনাটির বিভিন্ন ধাপ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদানগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করেছে।
প্রথম ধাপ
২০২৬ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট পেজ আরটিনিউজ২৪ একটি ছবি সহ একটি পোস্ট প্রকাশ করে। পোস্টে ব্যবহৃত ছবিতে এমন একটি দৃশ্য উপস্থাপন করা হয় যাতে দেখা যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু একজন তরুণীর সামনে নত হয়ে আছেন এবং দৃশ্যটি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যেন তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছেন।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল:
“জায়মা রহমানকে পর পর দুই বার সালাম দিলেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু।”
পোস্টটি প্রকাশের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং দ্রুত ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই পর্যায়ে পোস্টটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন ও ক্যাপশন মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ঘটনা বা পরিস্থিতি নির্দেশ করছে এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যায়।
এই ধাপটি পোস্টটির প্রাথমিক প্রকাশ এবং ন্যারেটিভ গঠনের সূচনা পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ
২০২৬ সালের ৯ মার্চ দুপুর ১টা ৪৬ এ ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টওয়াচ প্রকাশিত ছবিটি পর্যালোচনা করে জানায় যে পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত। তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয় যে ছবিটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন বাস্তব ঘটনার সরাসরি প্রতিফলন নয়।
এই তথ্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ ১টা ৫৮ মিনিটে আরটিনিউজ২৪ তাদের পোস্টের ক্যাপশন সম্পাদনা করে। সম্পাদিত ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি হলেও তাদের দাবি অনুযায়ী ঘটনাটির প্রেক্ষাপট বাস্তব। সংশোধিত ক্যাপশনে বলা হয় যে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানকে পরপর দুইবার হাত নেড়ে সালাম জানিয়েছেন।
এই পর্যায়ে পোস্টটির ভিজ্যুয়াল উপাদান সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা সংযোজন করা হলেও পোস্টটির মূল উপস্থাপন এবং পূর্ববর্তী ভাইরালতার প্রেক্ষাপট একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।
তৃতীয় ধাপ
২০২৬ সালের ৯ মার্চ বিকাল প্রায় ৪টা ৯ মিনিটে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ আরটিনিউজ২৪ পূর্বে প্রকাশিত পোস্টটিতে আবারও সম্পাদনা আনে। এই পর্যায়ে পোস্টে ব্যবহৃত পূর্ববর্তী ছবিটি সরিয়ে একটি ভিন্ন ছবি সংযুক্ত করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট ঘটনার মূল বা প্রকৃত ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
তবে পোস্টের ক্যাপশন আবারও পরিবর্তন করা হয়। এই পর্যায়ে আবাওর্ব একদম শুরুর ক্যাপশনে ফিরে যায়। তারা লেখেন,
“জায়মা রহমানকে পর পর দুই বার সালাম দিলেন রাষ্ট্রপতি চুপ্পু।”
এই পরিবর্তনের ফলে পোস্টটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় একটি সংশোধন দেখা গেলেও একই পোস্টের মধ্যে ভিন্ন সময়ের ভিন্ন ভিজ্যুয়াল উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট উপস্থাপনার পরিবর্তনশীল ধরণকে নির্দেশ করে।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| রিয়্যাকশন | ৫০,০০০+ |
| কমেন্ট | ৩,৭০০+ |
| শেয়ার | ২,১০০+ |
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া অর্জন করে। ২০২৬ সালের ৯ মার্চ দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি রিয়্যাকশন, প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মন্তব্য এবং প্রায় ২ হাজার ১০০ শেয়ার লক্ষ্য করা হয়।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে পোস্টটি স্বল্প সময়ের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ব্যবহারকারী সম্পৃক্ত হয়। তবে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ও শেয়ারের সংখ্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্টের প্রচার বা দৃশ্যমানতার মাত্রা নির্দেশ করতে পারে, কিন্তু তা নিজে থেকেই কনটেন্টের তথ্যগত নির্ভুলতা বা বাস্তবতার নিশ্চয়তা প্রদান করে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেটি অনেক সময় জনমনে একটি নির্দিষ্ট ধারণা বা ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে কনটেন্টের উৎস, ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়।
আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট পোস্টটির প্রাথমিক সংস্করণে ব্যবহৃত ছবিটি পরে একটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বা পরিবর্তিত বলে উল্লেখ করা হয়। ছবিটিতে এমন একটি দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল যাতে মনে হয় রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানের সামনে নত হয়ে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করছেন।
পরবর্তীতে পোস্টটির ক্যাপশন সম্পাদনা এবং ছবির পরিবর্তনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সংযোজন করা হয়। তবে পোস্টটির প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহৃত ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং অনেক ব্যবহারকারীর দৃষ্টিগোচর হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাটি ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতির সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পরবর্তী সংশোধনের মাধ্যমে পোস্টটির ভিজ্যুয়াল উপাদানে পরিবর্তন আনা হয়। ফলে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও যাচাইয়ের গুরুত্বকে সামনে আনে।
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট পোস্টটির প্রাথমিক সংস্করণে ব্যবহৃত ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং ক্যাপশন একত্রে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল। পোস্টের ছবিতে এমন একটি দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল যাতে মনে হতে পারে যে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমানের সামনে নত হয়ে আছেন এবং সেটি পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার একটি পরিস্থিতি নির্দেশ করছে।
পোস্টটির সাথে যুক্ত ক্যাপশনেও উল্লেখ করা হয় যে রাষ্ট্রপতি জায়মা রহমানকে পরপর দুইবার সালাম দিয়েছেন। ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং এই ধরনের সরাসরি বক্তব্যযুক্ত ক্যাপশন একত্রে ব্যবহার হওয়ার ফলে ঘটনাটিকে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনাটির ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট প্রচারের একটি পরিচিত ধারা লক্ষ্য করা যায়। প্রাথমিকভাবে একটি দৃষ্টি আকর্ষণকারী বা নাটকীয় ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং সরাসরি বক্তব্যযুক্ত ক্যাপশনসহ পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। এই ধরনের উপস্থাপনা স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহারকারীদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিক্রিয়া ও শেয়ার তৈরি করে।
পরবর্তী সময়ে একটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণে ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত বলে উল্লেখ করা হলে পোস্টটির ক্যাপশন সম্পাদনা করা হয় এবং পরে পোস্টের ভিজ্যুয়াল উপাদানেও পরিবর্তন আনা হয়। ফলে ঘটনাটির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে প্রাথমিক উপস্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা বা সংশোধন যুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টিকে বলা হয়, ‘ভাইরাল ফার্স্ট-কারেকশন লেটার’ মডেল।
ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি অ্যাসেসমেন্ট
| সূচক | মূল্যায়ন |
|---|---|
| ভিজ্যুয়াল নির্ভুলতা | ভুল |
| ক্যাপশন নির্ভুলতা | বিভ্রান্তিকর |
| সোর্স স্বচ্ছতা | অনুপস্থিত |
| সংশোধনের সময় | বিলম্বিত |
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় প্রথমে প্রকাশিত কনটেন্টটি অধিকাংশ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়, আর পরবর্তী সংশোধন তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে পারে। এই কারণে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কনটেন্ট প্রকাশের সময় ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এই ঘটনার ফ্রেমিং এনালাইসিস করলে প্রাথমিক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় এমন একটি দৃশ্য তৈরি হয় যাতে মনে হতে পারে রাষ্ট্রপতি একজন রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যের সামনে নত হয়ে আছেন। এই ধরনের উপস্থাপনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় একটি অপমানমূলক বা মর্যাদাগত অবস্থান পরিবর্তনের ধারণা তৈরি করতে পারে। ফলে দর্শকের কাছে ঘটনাটি একটি ব্যক্তিগত বা প্রতীকী মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে প্রতিফলিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, পোস্টটির ক্যাপশন ও ভিজ্যুয়াল একত্রে এমন একটি ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে যেখানে রাজনৈতিক পরিবার ও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার সম্পর্ককে একটি ক্ষমতার স্তরবিন্যাস বা প্রতীকী প্রাধান্য হিসেবে দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে নাটকীয় ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা অনেক সময় ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া বা বিস্ময়ের অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত শেয়ার ও আলোচনার মাধ্যমে আরও বিস্তার লাভ করে।
বিএমএমের পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে সংশ্লিষ্ট পোস্টটির ক্ষেত্রে কিছু উপাদান রয়েছে যা বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহৃত ছবিটি বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়নি। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বা পরিবর্তিত বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর এর ব্যাখ্যা ও সংশোধন যুক্ত করা হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, ক্যাপশন এবং পরবর্তী সংশোধনের সময়কাল একত্রে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে ঘটনাটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধরনের ধারণা বা ব্যাখ্যা তৈরি করার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এটিকে সরাসরি সংগঠিত বা রাষ্ট্রীয় প্রোপাগান্ডা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
বরং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নাটকীয় উপস্থাপনা বা ‘ক্লিক আকর্ষণকারী’ কনটেন্টের একটি উদাহরণ হতে পারে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, ক্যাপশন এবং ব্যবহারকারীর আবেগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই ঘটনার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ব্যবহৃত কৃত্রিমভাবে তৈরি বা পরিবর্তিত একটি ছবি এবং তার সাথে যুক্ত একটি সরাসরি বক্তব্যযুক্ত ক্যাপশন স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পরবর্তীতে ছবিটির বিষয়ে ব্যাখ্যা ও সংশোধন যুক্ত করা হলেও পোস্টটির প্রাথমিক সংস্করণ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে যে ধারণাটি তৈরি হয় সেটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থেকে যেতে পারে, যদিও পরে কনটেন্টে পরিবর্তন বা ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট, ভাষা ব্যবহার এবং তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বকে সামনে আনে। বিশেষ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া কনটেন্টের ক্ষেত্রে প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই ও সতর্কতা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।