সোহাগ মোহাম্মদ: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ক্রীড়া সংবাদ সবসময় গুরুত্ব পায়। কিন্তু সেখানে খুব বেশি ভেরিয়েশন থাকে না। বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর দেখার চেষ্টা করেছে ঢাকার নিউজরুমগুলো স্পোর্টসের কোন দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের নিচে উল্লেখিত নিউজরুমগুলো সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে মোট ১,৫৫১টি ক্রীড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে , যা খেলাধুলা নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমের আগ্রহকে প্রতিফলিত করে। দশটি গণমাধ্যমের ক্রীড়া শিরোনাম ট্র্যাক ও ম্যানুয়ালি গণনা করে আমরা দেখেছি যে, ক্রীড়া কভারেজে ধারাবাহিকতা যেমন আছে, তেমনি পরিবর্তনের ইঙ্গিতও রয়েছে।
পর্যবেক্ষণ করা গণমাধ্যম
প্রথম আলো
দ্য ডেইলি স্টার
যুগান্তর
কালেরকন্ঠ
ঢাকা ট্রিবিউন
বাংলানিউজ২৪
বিডিনিউজ২৪
ঢাকা পোস্ট
জাগো নিউজ
রাইজিং বিডি
সংখ্যার বিচারে ক্রিকেট এগিয়ে থাকলেও, ফুটবল কভারেজে উল্লেখযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেখা গেছে। যেমন ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল, আন্তর্জাতিক বাছাইপর্ব, বাংলাদেশ নারী ফুটবলের সাফল্য, ট্রান্সফার সংবাদ ও কোচিং সংক্রান্ত পরিবর্তন খুব গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ হচ্ছে। ফুটবল প্রতিবেদন ক্রিকেটের মতো খুব গুরুত্ব না পেলেও, আগের পর্যবেক্ষণগুলোর তুলনায় এটি আরও ধারাবাহিক। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও হাইভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে এর সম্পাদকীয় উপস্থিতি বিস্তৃত হচ্ছে। অন্যদিকে গণোমাধ্যমগুলো ক্রিকেটের ছোট ছোট বিষয়কেও খুব গুরুত্ব দিয়ে কাভার করছে।
ঢাকার নিউজরুমে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া প্রতিবেদনের পরিমাণ বেশি হলেও, ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরের খেলাগুলোর কভারেজ খুবই সীমিত। টেনিস, অ্যাথলেটিকস, ফুটসাল, বড় দুই খেলার (ক্রিকেট-ফুটবল) বাইরে দেশীয় লিগ এবং ছোট ছোট খেলাগুলো সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে কাভার করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র টুর্নামেন্ট ফলাফলের সংবাদ প্রকাশ করা হলেও বিশ্লেষণধর্মী ধারাবাহিক বর্ণনা পাওয়া যায়নি। অনেক খেলার কোন সংবাদই পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন গণমাধ্যম ক্রীড়া প্রতিবেদনে ভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেছে। ঢাকা পোস্ট ও বিডিনিউজ২৪ ধারাবাহিকভাবে বেশি সংখ্যক ক্রীড়া কনটেন্ট প্রকাশ করেছে, যুগান্তর ও কালেরকন্ঠ স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ আপডেট বজায় রেখেছে তবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার তুলনামূলকভাবে বাছাইকৃত ও বিশ্লেষণধর্মী কভারেজ দিয়েছে। বাকি গুলো ধারাবাহিক হলেও মোট সংখ্যায় কম প্রকাশ করেছে। এসব পার্থক্য ইঙ্গিত দেয় যে সম্পাদকীয় মডেল বা লেন্স ভিন্ন স্পোর্টসের ক্ষেত্রে। কেউ দ্রুত আপডেটকেন্দ্রিক, কেউ ভারসাম্যপূর্ণ গল্প বলার কৌশল অনুসরণ করে।
মাত্র দশ দিনে ১,৫০০ এর বেশি ক্রীড়া শিরোনাম দেখায় যে, গণমাধ্যমে ক্রিকেট এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলা। শুধুমাত্র ম্যাচ কভারেজে নয় বরং প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনাতেও। যা এর সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। তবে দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা ফুটবল ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক লিগগুলোর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে। অন্যান্য খেলাধুলা এখনও প্রতিদিনের নিউজরুমে প্রাসঙ্গিকতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
এছাড়া করপোরেট স্পন্সরের প্রভাবেও গণমাধ্যমগুলো শুধু দুইটা খেলাকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য হচ্ছে। স্পন্সররা মূলত দুই খেলার বাইরে আগ্রহী না হওয়াতেই এমনটা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে পিছিয়ে পড়া খেলাগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরিতে গণমাধ্যমগুলো নজর দিচ্ছে না। ফলে পিছিয়ে পড়া খেলাগুলো তাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কন্ঠ খুঁজে পাচ্ছে না।