মন্ত্রীর বক্তব্য প্রচারে একাত্তর টিভির ‘চেরি পিকিং’ কৌশল

ক্রনিকলার ফেলো: রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের আজকের “সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা টাকা চাঁদা নয়” বক্তব্যটি গণমাধ্যমের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল। ব্যাতিক্রম ছিল শুধু একাত্তর টেলিভিশন। টেলিভিশনটির ইউটিউবে তিনটি ভিডিও কন্টেন্ট ছিল। এরমধ্যে দুইটি ছিল মূল ভিডিও থেকে কেটে বক্তব্য আর অন্যটি পূর্ণ রিপোর্ট। এই তিন কন্টেন্টের কোথাও টেলিভিশনটি আলোচিত বক্তব্যটি উল্লেখ করেনি। খুব সুকৌশলে এড়িয়ে গেছে।

যখন দিনের সবচেয়ে বিতর্কিত বক্তব্যকে প্রাধান্য না দিয়ে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অংশকে বারবার প্রচার করে, তখন সেটি কেবল সম্পাদকীয় পছন্দের বিষয় থাকে না বরং সেটি এজেন্ডা কন্ট্রোলের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। মন্ত্রীর মন্তব্যটি ছিল জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি নীতিগত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সেটিকে আড়াল করে অন্য সব রাজনৈতিক বার্তা প্রচার করা হলে সেটি তথ্যের ভারসাম্য নষ্ট করে। মূলত গণমাধ্যমটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই নেতিবাচক দিকটি এড়িয়ে গিয়ে মন্ত্রীর কেবল আদর্শিক ও পলিটিক্যাল স্টেটমেন্টগুলো প্রচার করেছে।

গণমাধ্যমটি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘চেরি পিকিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। তারা মন্ত্রীর বক্তব্যের এমন কিছু অংশ বেছে নিয়েছে যেখানে তিনি ‘দুর্নীতিমুক্ত’ এবং ‘জনস্বার্থ রক্ষার’ কথা বলছেন। অথচ একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি চাঁদাবাজির মতো দুর্নীতির একটি বড় ক্ষেত্রকে ‘জাস্টিফাই’ করেছেন। এই স্ববিরোধিতাটি আড়াল করার মাধ্যমে টেলিভিশনটি সাধারণ দর্শককে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তারা মন্ত্রীকে একজন দূরদর্শী নেতা হিসেবে চিত্রায়িত করতে গিয়ে সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি’পূর্ণাঙ্গ সত্য প্রকাশকে’ আটকে দিয়েছেন।

এই ধরনের নির্বাচিত প্রচার কেবল একটি বক্তব্য আড়াল করা নয়, এটি জনপরিসরে তথ্যপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করারও প্রক্রিয়া। দর্শক যখন সম্পূর্ণ বক্তব্যের বদলে ‘বাছাই’ করা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি শোনেন, তখন তারা বিতর্কের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন না। ফলে জনমত গঠনের প্রক্রিয়া আংশিক তথ্যের উপর দাঁড়ায়। এটিই গণমাধ্যমের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সূক্ষ্ম পদ্ধতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top