বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর ‘সেফটি ট্র্যাকার’ এর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক আক্রমণ, আইনি হয়রানি এবং অন্যান্য সহিংস ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এই প্রতিবেদনটি একটি বস্তুনিষ্ঠ দলিল হিসেবে কাজ করে, যেখানে প্রতিটি ঘটনার প্রেক্ষাপট, কারণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পূর্বের ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর মাসেও দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের নিয়মিত সেফটি ট্র্যাকিং ও সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই এক মাসে সারা দেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ৩১টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৪৩ জন সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ক্ষমতা কাঠামোর রূপান্তর ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই সন্ধিক্ষণে গণমাধ্যমের ওপর আগ্রাসন কেবল প্রথাগত শারীরিক বলপ্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা আইনি ব্যবস্থার অস্ত্রায়ন, প্রশাসনিক কর্তৃত্বের অপব্যবহার, মতাদর্শিক চরমপন্থা, ডিজিটাল হুমকি এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বঞ্চনার এক উদাহরণে রূপ নিয়েছে।
সামগ্রিক তথ্যপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে একটি পদ্ধতিগত বিন্যাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে দলীয় ক্যাডার ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সহিংসতা যেমন সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে অরক্ষিত করেছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিহীনতা সাংবাদিকদের আইনি ফাঁদে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি, মফস্বলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে ‘গুম করার হুমকি’ এবং সাজানো মাদক অভিযানের মতো ঘটনা প্রশাসনিক ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ পুনরুত্থানকে নির্দেশ করে। একই সাথে গণমাধ্যম হাউসের অভ্যন্তরীণ বেতন বকেয়া ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো ব্যাপার সহসাই লক্ষণীয়।
শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও প্রত্যক্ষ শারীরিক নির্যাতন, গৃহ আক্রমণ ও অপহরণের হুমকির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটক, মামলা দায়ের, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করার মতো ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরে জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নিম্নোক্ত সারণীতে সেপ্টেম্বর মাসের সহিংসতার একটি সাধারণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো।
সেপ্টেম্বর ২০২৬: সাংবাদিকদের ওপর হামলার পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সাংবাদিকদের ওপর আঘাতের প্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভীতি প্রদর্শন এবং বিচার বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে রুদ্ধ করার অভিপ্রায় লক্ষ্য করা গিয়েছে। মোট ৩১টি ঘটনার মধ্যে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাই ছিল সর্বোচ্চ ৩৫.৪৮ শতাংশ, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছেন ১৩ জন সাংবাদিক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি নিপীড়ন ও হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে, যা মোট ঘটনার ১৯.৩৫ শতাংশ এবং এতে ৮ জন সংবাদকর্মী মারাত্মক আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন।
শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি (১৬.১৩%), তবে এই ঘটনাগুলোর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ছিল সর্বাধিক; কারণ এককভাবে এই ধরনের হামলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাৎ ১১ জন সাংবাদিক (২৫.৫৮%) সরাসরি রক্তাক্ত ও গুরুতর শারীরিক জখমের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক সরাসরি গ্রেফতার ও আটকের ঘটনা ঘটেছে ২টি (৬.৪৫%), যেখানে ২ জন সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে; বাসভবনে সশস্ত্র হামলা, তল্লাশির নামে তাণ্ডব এবং ভাঙচুরের মতো ৩টি ঘটনা (মোট ঘটনার ৯.৬৮%) সাংবাদিকদের আবাসের নিরাপত্তাহীনতাকে স্পষ্ট করে।
| হামলার প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাস | ঘটনার সংখ্যা | ঘটনার শতকরা হার (%) | আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা | আক্রান্তের শতকরা হার (%) |
| হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন | ১১ | ৩৫.৪৮% | ১৩ | ৩০.২৩% |
| আইনি নিপীড়ন ও মামলা | ৬ | ১৯.৩৫% | ৮ | ১৮.৬০% |
| শারীরিক আক্রমণ | ৫ | ১৬.১৩% | ১১ | ২৫.৫৮% |
| আইনি নিপীড়ন ও গ্রেফতার | ২ | ৬.৪৫% | ২ | ৪.৬৫% |
| বাসভবনে সশস্ত্র হামলা ও গুলিবর্ষণ | ১ | ৩.২৩% | ১ | ২.৩৩% |
| বাসস্থানে সাজানো অভিযান ও প্রশাসনিক হয়রানি | ১ | ৩.২৩% | ১ | ২.৩৩% |
| বাসস্থান লক্ষ্য করে আক্রমণ ও ভাঙচুর | ১ | ৩.২৩% | ১ | ২.৩৩% |
| পেশাগত দায়িত্বে বাধা, লাঞ্ছনা ও সরঞ্জাম ছিনতাই | ১ | ৩.২৩% | ৩ | ৬.৯৮% |
| মব আক্রমণ ও ক্যামেরা ছিনতাই চেষ্টা | ১ | ৩.২৩% | ১ | ২.৩৩% |
| লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও লাঞ্ছনা | ১ | ৩.২৩% | ১ | ২.৩৩% |
| কাঠামোগত সহিংসতা ও মৃত্যু | ১ | ৩.২৩% | ১ | ২.৩৩% |
| সর্বমোট | ৩১ | ১০০.০০% | ৪৩ | ১০০.০০% |
উল্লিখিত ঘটনাগুলোর মধ্যে শারীরিক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি, যা মোট ঘটনার ১৬.১৩ শতাংশ। ঘটনার সংখ্যার দিক থেকে এটি তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও এর প্রভাব ছিল সর্বাধিক। এককভাবে এই শারীরিক হামলার ঘটনাগুলোতেই সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাৎ ১১ জন সাংবাদিক সরাসরি রক্তাক্ত ও গুরুতর শারীরিক জখমের শিকার হয়েছেন, যা মোট আক্রান্তের ২৫.৫৮ শতাংশ। সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিসরকেও সহিংস আক্রমণের নিশানা করা হয়েছে। বাসস্থান লক্ষ্য করে সশস্ত্র গুলিবর্ষণ (৩.২৩ শতাংশ ঘটনায় ১ জন আক্রান্ত), বসতবাড়িতে সাজানো প্রশাসনিক অভিযান (৩.২৩ শতাংশ ঘটনায় ১ জন আক্রান্ত) এবং প্রতিরোধমূলক কারণে সাংবাদিকদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের (৩.২৩ শতাংশ ঘটনায় ১ জন আক্রান্ত) মতো ৩টি পৃথক ঘটনা সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনের নিরাপত্তাহীনতাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।
অন্যান্য সহিংসতার মধ্যে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় দায়িত্ব পালনকালে বাধা ও লাঞ্ছনার ১টি ঘটনায় ৩ জন (৬.৯৮ শতাংশ) আক্রান্ত হয়েছেন এবং উন্মুক্ত গণজমায়েতে মব আক্রমণের ১টি ঘটনায় ১ জন সাংবাদিক (২.৩৩ শতাংশ) শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এছাড়া প্রেস কনফারেন্সে ধর্মীয় শর্ত চাপিয়ে নারী সাংবাদিকের প্রতি লিঙ্গভিত্তিক অবমাননা ও বৈষম্যের ১টি ঘটনায় ১ জন (২.৩৩ শতাংশ) এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ চরম অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও বেতন বকেয়ার প্রতিক্রিয়ায় সংঘটিত প্রাতিষ্ঠানিক আত্মহত্যার ১টি ঘটনায় ১ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের (২.৩৩ শতাংশ) মর্মান্তিক প্রয়াণ ঘটেছে।
আক্রমণকারীদের চরিত্র ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিশ্লেষণ
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ঘটনাপ্রবাহে আক্রমণকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে রাজনৈতিক শক্তি এবং অরাজনৈতিক/প্রশাসনিক শক্তির মধ্যকার একটি ভারসাম্য দৃশ্যমান হয়েছে। সংগৃহীত উপাত্ত অনুযায়ী, মোট ৩১টি ঘটনার মধ্যে ১৫টিতে সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন বা দলীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা মোট ঘটনার ৪৮.৩৯ শতাংশ। এসব রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৮ জন সাংবাদিক, যা মোট আক্রান্তের ৪১.৮৬ শতাংশ।
বিপরীতে, ১৬টি ঘটনায় (৫১.৬১%) কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না; তবে এই অরাজনৈতিক ঘটনাগুলোতে আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা ছিল আরও বেশি—২৫ জন বা মোট আক্রান্তের ৫৮.১৪ শতাংশ। এই অরাজনৈতিক আক্রমণকারীদের বলয়ে প্রধানত সক্রিয় ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় আমলাতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক স্বেচ্ছাচারিতা, সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট এবং অনিয়ন্ত্রিত মব সহিংসতা।
| সংশ্লিষ্টতার শ্রেণি | ঘটনার সংখ্যা | ঘটনার অনুপাত (%) | আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা | আক্রান্তের অনুপাত (%) |
| রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাযুক্ত ঘটনা | ১৫ | ৪৮.৩৯% | ১৮ | ৪১.৮৬% |
| অরাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অপরাধ চক্র সংশ্লিষ্ট ঘটনা | ১৬ | ৫১.৬১% | ২৫ | ৫৮.১৪% |
| সর্বমোট | ৩১ | ১০০.০০% | ৪৩ | ১০০.০০% |
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ১৫টি ঘটনার গভীর পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় মাঠে প্রভাব বিস্তারে লিপ্ত বিভিন্ন পক্ষ সাংবাদিকদের দলভুক্ত করছে। যেমন, সুনামগঞ্জের ছাতকে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করায় ছাত্রশিবির কর্মীরা সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করে মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অনুসন্ধানী সংবাদ করায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই, ছেলে ও দেহরক্ষী মিলে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।
রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় ট্রাফিক চেকপোস্টে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ভিডিও ধারণ করায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এক সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করে এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ তকমা দিয়ে ধারাবাহিক হুমকি প্রদান করে।
দলীয় রাজনীতির প্রভাব আন্তর্জাতিক পরিসরেও দৃশ্যমান হয়েছে; মালয়েশিয়া বিএনপি সভাপতির নামের পূর্বে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ ও ‘সভাপতি’ পদবি ব্যবহার না করায় আরটিভির বৈদেশিক প্রতিনিধির ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। তা ছাড়া, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সাথে সাংবাদিকদের নাম জুড়ে দিয়ে আইনি নিপীড়নের মারাত্মক প্রবণতাও দেখা গেছে। মধ্যনগরে ইউনিয়ন বিএনপি নেতার দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের রাজনৈতিক মামলায় এবং পাকুন্দিয়ায় ওসির ব্যক্তিগত আক্রোশে দায়ের করা রাজনৈতিক বিস্ফোরক মামলায় সাংবাদিকদের দলীয় ট্যাগিং দিয়ে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে অরাজনৈতিক ৫১.৬১ শতাংশ ঘটনায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে ‘গুম করে ফেলার’ হুমকি এবং মধ্যরাতে সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে সাজানো মাদক অভিযানের মতো ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে জবাবদিহিহীন আমলাতন্ত্র কতটা বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে। রাজধানীর মিরপুরে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদকালে সংঘবদ্ধ হকার চক্র সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে গুরুতর আহত করে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক বাণিজ্যের তথ্য অনুসন্ধানে গিয়ে মাদক চক্রের হামলায় ক্ষতবিক্ষত হন তিন সংবাদকর্মী।
আক্রান্ত সাংবাদিকদের লিঙ্গভিত্তিক অনুপাত ও নারী সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্যে লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনে চরম অসামঞ্জস্য ও প্রান্তিকতা পরিলক্ষিত হয়। আক্রান্ত ৪৩ জন সংবাদকর্মীর মধ্যে ৪২ জনই পুরুষ (৯৭.৬৭%) এবং মাত্র ১ জন নারী (২.৩৩%)। এই বৈষম্যমূলক পরিসংখ্যান আপাতদৃষ্টিতে নারী সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা কম হওয়ার আভাস দিলেও, এর অন্তর্নিহিত বাস্তবতা মূলত বাংলাদেশের মূলধারার সাংবাদিকতায় নারীদের নিরাপত্তাহীনতা ও কাঠামোগত অনুপস্থিতির প্রতিফলন।
| লিঙ্গভিত্তিক অনুপাত | আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা | শতকরা হার (%) |
| পুরুষ সংবাদকর্মী | ৪২ | ৯৭.৬৭% |
| নারী সংবাদকর্মী | ১ | ২.৩৩% |
| সর্বমোট | ৪৩ | ১০০.০০% |
মাঠপর্যায়ের বিপজ্জনক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক বিবাদ এবং অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদনে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত কারণেই নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও ধর্মীয়-রাজনৈতিক পরিসরে নারী সাংবাদিকরা যে ধরনের পদ্ধতিগত অবমাননা ও বাধার মুখোমুখি হন, তার একটি নজির স্থাপিত হয়েছে এই মাসে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক টাইমস টুডের রিপোর্টার শিউলি আক্তার শীলা দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের অবমাননাকর আচরণের শিকার হন। সংবাদ সম্মেলনে ‘পর্দা না করার’ অভিযোগ তুলে ওই নারী সাংবাদিককে সামনের আসন থেকে জোরপূর্বক তুলে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয় যে নারী সাংবাদিকদের দলীয় আয়োজনে আসতে হলে পর্দা মেনেই উপস্থিত হতে হবে।
সর্বাধিক হামলার শিকার সংবাদমাধ্যমসমূহ
সেপ্টেম্বর মাসে নির্দিষ্ট কোনো একক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর সমন্বিত আক্রমণ না ঘটলেও, মূলধারার সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল অনুসন্ধানী পোর্টালগুলো ধারাবাহিকভাবে নিশানা হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্তত পাঁচটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম পৃথক দুটি করে ঘটনার শিকার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দৈনিক কালবেলা, ঢাকা স্ট্রিম, দৈনিক সমকাল, স্টার নিউজ এবং দৈনিক আমার সংবাদ।
| সংবাদমাধ্যমের নাম | ঘটনার সংখ্যা | আক্রান্ত সাংবাদিকের সংখ্যা | প্রধান নিপীড়নের ধরন ও ঝুঁকির উৎস |
| দৈনিক কালবেলা | ২ | ২ | উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গুমের হুমকি ও সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা |
| ঢাকা স্ট্রিম | ২ | ২ | সাইবার ধ্বংসের হুমকি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ট্যাগিং |
| স্টার নিউজ | ২ | ২ | মিরপুরে হকার মব ও সাভারে মাদ্রাসা মব কর্তৃক হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাই চেষ্টা |
| দৈনিক সমকাল | ২ | ২ | তথ্য অধিকারে তথ্য চাওয়ায় আমলাতান্ত্রিক হুমকি ও ব্যুরো প্রধানের আত্মহত্যা |
| দৈনিক আমার সংবাদ | ২ | ২ | রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন কর্তৃক লাঞ্ছনা ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা |
| সময় টেলিভিশন | ১ | ২ | ফুটপাত উচ্ছেদ সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহে রিপোর্টার ও ভিডিও জার্নালিস্ট আহত |
| যমুনা টেলিভিশন | ১ | (যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত) | পেশাগত সংবাদ সংগ্রহকালে সম্প্রচার যানে পরিকল্পিত ভাঙচুর |
| বাংলা টিভি | ১ | ১ | অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় বাসভবনে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র গুলিবর্ষণ |
গণমাধ্যমভিত্তিক এই তালিকা পর্যালোচনা করলে লক্ষণীয় যে ঢাকা স্ট্রিমের মতো স্বাধীন ডিজিটাল অনুসন্ধানী মাধ্যমগুলো মতাদর্শিক ও শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসনিক রোষানলে পড়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বইমেলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাহিত্য বিক্রির তথ্য ফাঁস করায় ঢাকা স্ট্রিমকে ইমেইলের মাধ্যমে ১২ ঘণ্টার মধ্যে সাইবার হামলা চালিয়ে ওয়েবসাইট উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
স্টার নিউজ ও সময় টেলিভিশনের মতো ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমগুলো মাঠপর্যায়ে ক্ষুব্ধ মব ও দখলদারদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক সমকালের মতো জাতীয় দৈনিকগুলো মফস্বলে স্থানীয় ক্ষমতাধর আমলা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থান্বেষী মহলের আইনি চক্রান্তের মুখে পড়েছে।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় দমনপীড়ন ও কাঠামোগত দুর্বলতা
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন সেপ্টেম্বর মাসে একটি ভয়াবহ উদ্বেগজনক মাত্রা ধারণ করেছে। সাধারণত মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অভয়ারণ্য হিসেবে বিবেচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে ৪টি পৃথক সহিংসতায় অন্তত ৮ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা এই মুহূর্তে ত্রিবিধ সংকটে: রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার, ক্যাম্পাসে শিকড় গেড়ে বসা মাদক মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা।
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবস্থান | আক্রান্তের সংখ্যা | জড়িত পক্ষ বা আক্রমণকারী | নিপীড়নের প্রকৃতি ও সংক্ষিপ্ত পটভূমি |
| সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা | ১ | ক্যাম্পাসের বিবদমান ছাত্র উপদল | ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহকালে অতর্কিত মারধর ও জখম |
| গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক ডিগ্রি কলেজ, ছাতক, সুনামগঞ্জ | ৩ | ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মী-সমর্থক | ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের সংবাদ কভারকালে লাঞ্ছনা ও মোবাইল ছিনতাই চেষ্টা |
| ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (DIU), ঢাকা | ৩ | ক্যাম্পাস মাদক সিন্ডিকেট | ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তার নিয়ে রিপোর্ট করায় প্রাণনাশের লাগাতার হুমকি |
| জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা | ১ | অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খান | সিন্ডিকেট নির্বাচনের সংবাদ করায় রাজনৈতিক ট্যাগিং ও প্রতিবেদন প্রত্যাহারের চাপ |
ক্যাম্পাসভিত্তিক ঘটনাগুলোর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শিক্ষার্থী-সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম অসহায়ত্বের শিকার হচ্ছেন। গোবিন্দগঞ্জ কলেজে চার ঘণ্টাব্যাপী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র সংঘর্ষের ফুটেজ ধারণের সময় ছাত্রশিবির কর্মীরা তথ্যপ্রমাণ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরকারি তিতুমীর কলেজে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আবদুর রহমান তালুকদার দলীয় উপদলের মারধরের শিকার হন।
সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে বেসরকারি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (DIU)। ক্যাম্পাসে মাদকের নিরাপদ বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ তিন শিক্ষার্থী-সাংবাদিককে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মতো সম্মানিত পদে আসীন ব্যক্তি কর্তৃক ঢাকা স্ট্রিমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর অধ্যাপক ড. নাহরীন ইসলাম খান সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল মুত্তালিব নাবিলকে ‘সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অংশ’ বলে রাজনৈতিক ট্যাগিং দেন এবং সংবাদ সরিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সুরক্ষা না থাকা এবং তারা একই সঙ্গে শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক ও শারীরিকভাবে প্রতিশোধ নেওয়া আক্রমণকারীদের জন্য অত্যন্ত সহজ হচ্ছে।
আঞ্চলিক সাংবাদিকতা ও জেলাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভৌগোলিক বিস্তার বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার কেন্দ্র বনাম প্রান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বৈপরীত্যমূলক চিত্র দেখা যায়। প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী, দেশের ১৫টি জেলায় সাংবাদিকদের ওপর প্রত্যক্ষ আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে এককভাবে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৫টি ঘটনা (৪৮.৩৯%) নথিভুক্ত হয়েছে এবং সর্বাধিক ২২ জন সাংবাদিক (৫১.১৬%) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অবশিষ্ট ১৬টি ঘটনা (৫১.৬১%) এবং ২১ জন ভুক্তভোগী (৪৮.৮৪%) বিস্তৃত ছিলেন দেশের অন্যান্য ১৪টি জেলা জুড়ে।
ঢাকায় এই উচ্চসংখ্যার কারণ হলো প্রধান গণমাধ্যমগুলোর কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষের অবস্থান, রাজপথের রাজনৈতিক সংঘাত, বিভিন্ন গোষ্ঠীগত সহিংসতা এবং প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রাজধানীর রাজনৈতিক গুরুত্ব। ঢাকায় ঝুঁকি মূলত মব আক্রমণ, অপরাধ চক্রের সশস্ত্র হামলা এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সংঘাত থেকে উদ্ভূত।
তবে মফস্বল বা প্রান্তিক জেলাগুলোর ঝুঁকি চরিত্রগতভাবে ঢাকার চেয়ে বহুগুণ বেশি। মফস্বলের সাংবাদিকরা স্থানীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, থানার ওসি এবং উপজেলা পর্যায়ের আমলাদের প্রত্যক্ষ আধিপত্যের মুখোমুখি হন।
| জেলা | আক্রান্তের সংখ্যা | ঘটনার প্রকৃতি ও মূল বৈশিষ্ট্য | প্রধান প্রভাবক বা আক্রমণকারী পক্ষ |
| ঢাকা | ২২ | শারীরিক আক্রমণ, গুলিবর্ষণ, গ্রেফতার, সাইবার ও প্রাণনাশের হুমকি | হকার মব, অপরাধী গ্যাং, ছাত্রদল, চরমপন্থী চক্র ও পুলিশ |
| সুনামগঞ্জ | ৪ | লাঞ্ছনা, মোবাইল ছিনতাই চেষ্টা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা | ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃত্ব |
| কুড়িগ্রাম | ২ | গুম করার হুমকি, বাসা তল্লাশি ও প্রশাসনিক প্রতিশোধ | উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) |
| কক্সবাজার | ২ | দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কঠোর ধারায় ফৌজদারি মামলা | সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও বিএনপি নেতা |
| লালমনিরহাট | ২ | রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলায় অভিযুক্তকরণ | সমবায় সমিতির দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক |
| নোয়াখালী | ২ | ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও মামলা নিতে পুলিশের অনীহা | এতিমখানার মুহতামিম ও তার চক্র |
| বরিশাল | ১ | বকেয়া বেতন-ভাতা না পেয়ে ব্যুরো অফিসে আত্মহত্যা | গণমাধ্যম হাউসের অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক শোষণ |
| গাজীপুর | ১ | ছিনতাই প্রতিহত করায় সাংবাদিকের বসতবাড়িতে হামলা | স্থানীয় ছিনতাইকারী চক্র |
| খাগড়াছড়ি | ১ | তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জোড়া মামলায় আইনি নিপীড়ন | জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও প্রেস ক্লাব নেতা |
| কিশোরগঞ্জ | ১ | আটক, রাজনৈতিক ট্যাগিং ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় চালান | পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) |
| কুষ্টিয়া | ১ | উন্নয়ন দুর্নীতির অনুসন্ধানে গিয়ে শারীরিক আক্রমণ | সংসদ সদস্যের ভাই, ছেলে ও দলীয় ক্যাডার |
| মাগুরা | ১ | প্রকল্পের অনিয়মের তথ্যানুসন্ধানে পা কেটে ফেলার হুমকি | জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা |
| নওগাঁ | ১ | অর্পিত সম্পত্তির হত্যা মামলায় উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত অন্তর্ভুক্তি | ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক চক্রান্ত |
| রাজশাহী | ১ | অনুসন্ধানী সংবাদের জেরে মোবাইলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি | অজ্ঞাত কায়েমি স্বার্থান্বেষী হুমকিদাতা |
| টাঙ্গাইল | ১ | তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় আমলাতান্ত্রিক হুমকি | উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক |