টেলিভিশন টক-শো অতিথি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ: সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটর তাদের সীমিত সাধ্যের মধ্যে (স্বেচ্ছাসেবী) সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়কালে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলে (সময় টিভি, স্টার নিউজ, যমুনা টিভি, চ্যানেল ২৪, নিউজ ২৪, এখন টিভি, চ্যানেল ওয়ান, একাত্তর টিভি, বাংলাভিশন, ডিবিসি নিউজ, চ্যানেল আই, এসএ টিভি এবং আরটিভি) সম্প্রচারিত টক শোগুলোর সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি, আলোচক নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি, রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য, আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞদের পেশাগত ক্ষেত্র, সঞ্চালকদের জেন্ডার সমতা এবং জাতীয় রাজনীতির সমান্তরালে বিষয়বস্তুর পরিবর্তন বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছে।  আলোচ্য পর্যবেক্ষণকাল ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। 

এই বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনটির মূল লক্ষ্য হলো সমসাময়িক রাজনৈতিক এজেন্ডা, ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বহুমাত্রিক আলোচনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা। সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণকালে দেশের নীতিনির্ধারণী আলোচনাগুলোর গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য বিভিন্ন চ্যানেলের টক শোতে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি এবং তাঁদের বক্তব্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমায় সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় নির্দিষ্ট কয়েকজন বিশ্লেষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়মিতভাবে উপস্থিত ছিলেন, যা গণমাধ্যমে আলোচক নির্বাচনের একটি বিশেষ প্রবণতাকে নির্দেশ করে। 

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলে সর্বমোট ৩৭০টি পর্ব পরিচালিত ও সম্প্রচারিত হয়েছে। এই ৩৭০টি পর্বের মধ্যে ২৬২টি পর্ব (৭০.৮%) পুরুষ সঞ্চালক এবং ১০৮টি পর্ব (২৯.২%) নারী সঞ্চালক দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। টক-শোর প্যানেল নির্বাচন, বিষয়বস্তুর অগ্রাধিকার এবং উপস্থাপনা শৈলীতে চ্যানেলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক নীতির ভিন্নতা থাকলেও সামগ্রিক কাঠামোতে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রাধান্য বজায় ছিল।

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শীর্ষ ১০ জন ব্যস্ততম আলোচক

পর্যবেক্ষণকালে দেশের ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী এবং পেশাদার বিশেষজ্ঞদের এক বহুমাত্রিক উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সংগৃহীত উপাত্তের নিবিড় পরিমাণগত ও গুণগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সর্বাধিক সক্রিয় এবং ব্যস্ততম শীর্ষ ১০টি অবস্থানে যৌথ অবস্থানের কারণে মোট ১২ জন আলোচক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই তালিকায় আলোচকদের ক্রস-চ্যানেল উপস্থিতি এবং তাঁদের গুণগত ভূমিকার বিশদ বিবরণ নিচে সারণিবদ্ধ করা হলো:

ক্রমআলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিত হওয়া চ্যানেল ও পর্ব সংখ্যা
১শরিফুজ্জামান শরিফসাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক১৫নিউজ ২৪ (৬), যমুনা টিভি (৩), স্টার নিউজ (২), এখন টিভি (২), চ্যানেল ওয়ান (২)
২নিলোফার চৌধুরী মনিসংসদ সদস্য ও সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)১৫সময় টিভি (৩), নিউজ ২৪ (৩), আরটিভি (৩), এখন টিভি (২), চ্যানেল ওয়ান (২), একাত্তর টিভি (২)
৩রেজাউল করিম রনিসম্পাদক, জবান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক১৪নিউজ ২৪ (৫), আরটিভি (৩), সময় টিভি (২), স্টার নিউজ (২), যমুনা টিভি (২)
৪সারোয়ার তুষারযুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য (রাজনৈতিক পর্ষদ), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)১৪সময় টিভি (৩), একাত্তর টিভি (৩), যমুনা টিভি (২), বাংলাভিশন (২), এসএ টিভি (২), আরটিভি (২)
৫রুহিন হোসেন প্রিন্সসাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)১৩নিউজ ২৪ (৪), চ্যানেল ওয়ান (৩), সময় টিভি (২), বাংলাভিশন (২), এসএ টিভি (২)
৬আজিজুল বারী হেলালসংসদ সদস্য (খুলনা-৪) ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি১১যমুনা টিভি (৩), সময় টিভি (২), নিউজ ২৪ (২), একাত্তর টিভি (২), আরটিভি (২)
৭অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাঅধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়১০নিউজ ২৪ (৪), যমুনা টিভি (২), চ্যানেল ওয়ান (২), ডিবিসি নিউজ (২)
৮সাহেদ আলমজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক১০সময় টিভি (৩), চ্যানেল ওয়ান (৩), স্টার নিউজ (২), যমুনা টিভি (২)
৯মজিবুর রহমান মঞ্জুচেয়ারম্যান, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)১০সময় টিভি (২), এখন টিভি (২), চ্যানেল ওয়ান (২), বাংলাভিশন (২), আরটিভি (২)
১০ড. সাজিদুল হক রুবেলকেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিপিবি১০নিউজ ২৪ (৬), স্টার নিউজ (২), চ্যানেল ওয়ান (২)
১১গোলাম মাওলা রনিসাবেক সংসদ সদস্য, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক৯নিউজ ২৪ (৪), চ্যানেল ওয়ান (৩), বাংলাভিশন (২)
১২তাহসিন রিয়াজযুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)৯চ্যানেল ওয়ান (৪), স্টার নিউজ (৩), যমুনা টিভি (২)

বিশেষ দ্রষ্টব্য ০১: অন্তত দুইবার কোন নির্দিষ্ট চ্যানেলের টক-শোতে উপস্থিত হওয়া আলোচকদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যাঁরা উল্লিখিত সময়সীমায় একবার কোনো চ্যানেলের টক-শোতে উপস্থিত হয়েছেন, তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

জেন্ডার রিপ্রেজেন্টেশন ও নারী আলোচকদের সামগ্রিক বিশ্লেষণ

টেলিভিশন টক শোগুলোতে আলোচক ও বিশেষজ্ঞ নির্বাচনের ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং প্রতিনিধিত্বহীনতার একটি চিত্র নথিবদ্ধ হয়েছে। উপস্থাপকদের ক্ষেত্রে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট চ্যানেলে কিছুটা ভারসাম্য দেখা গেলেও মূল স্টুডিও আলোচনার ক্ষেত্রে নারী কণ্ঠস্বর ছিল প্রান্তিক।

নারী আলোচকদের অনুপাত ও তুলনামূলক পরিসংখ্যান

  • উপস্থিতির অনুপাত: পুরো সেপ্টেম্বর মাসে ১৩টি চ্যানেলে টক শোর মোট ৪৪৫টি আলোচক-উপস্থিতির মধ্যে পুরুষদের উপস্থিতি ছিল ৪০০ বার (৮৯.৯ শতাংশ), যেখানে নারীদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪৫ বার (১০.১ শতাংশ)।
  • ব্যক্তির অনুপাত: স্বতন্ত্র আলোচকের সংখ্যার নিরিখে মোট আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ৯০.৬ শতাংশই ছিলেন পুরুষ এবং নারী আলোচকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৯.৪ শতাংশ।
  • নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রীকতা: নারীদের মোট ৪৫টি উপস্থিতির অর্ধেকেরও বেশি (৫৫.৬ শতাংশ) এসেছে মাত্র দুজন নারী আলোচকের মাধ্যমে। বিএনপির নিলোফার চৌধুরী মনি (১৫ বার) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা (১০ বার)। বাকি ৭ জন নারী আলোচক মিলে পুরো মাসে অংশ নিয়েছেন মাত্র ২০ বার।
  • পেশাগত ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা: আমন্ত্রিত ৯ জন নিয়মিত নারী আলোচকের মধ্যে ৬ জনই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি (বিএনপির ৪ জন এবং এনসিপির ২ জন), যারা মোট ৩১টি পর্বে অংশ নেন (নারী উপস্থিতির ৬৮.৯ শতাংশ)। বাকি ৩ জন ছিলেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক (১৪টি পর্ব, ৩১.১ শতাংশ)। অর্থনীতি, জ্বালানি, নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল কিংবা আইন ও বিচার ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্রে কোনো নারী আলোচকের উপস্থিতি পুরো মাসে ছিল না।

নিয়মিত অংশগ্রহণকারী নারী আলোচকদের তালিকা ও পর্ব সংখ্যা

নথির তথ্যানুযায়ী একাধিকবার টক শোতে অংশ নিয়েছেন এমন ৯ জন নিয়মিত নারী আলোচকের পরিচয় ও মোট উপস্থিতির তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

ক্রমনারী আলোচকের নামপদবী ও প্রাতিষ্ঠানিক/ রাজনৈতিক পরিচয়উপস্থিতিউপস্থিত হওয়া চ্যানেল ও পর্ব সংখ্যা
১নিলোফার চৌধুরী মনিসংসদ সদস্য ও সহ-সম্পাদক, বিএনপি১৫সময় টিভি (৩), নিউজ ২৪ (৩), আরটিভি (৩), এখন টিভি (২), চ্যানেল ওয়ান (২), একাত্তর টিভি (২)
২অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধাঅধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়১০নিউজ ২৪ (৪), যমুনা টিভি (২), চ্যানেল ওয়ান (২), ডিবিসি নিউজ (২)
৩অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূরসদস্য সচিব / যুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি৪সময় টিভি (২), যমুনা টিভি (২)
৪ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাসংসদ সদস্য, বিএনপি৪সময় টিভি (২), একাত্তর টিভি (২)
৫হেলেন জেরিন খানসংসদ সদস্য ও সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি৪চ্যানেল ওয়ান (২), একাত্তর টিভি (২)
৬শিরিন সুলতানাসংসদ সদস্য, বিএনপি২সময় টিভি (২)
৭ড. নাহরিন ইসলাম খানঅধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়২সময় টিভি (২)
৮অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিনঅধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়২চ্যানেল ২৪ (২)
৯মনিরা শারমিনযুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি২এসএ টিভি (২)

রাজনৈতিক দলভিত্তিক নারী প্রতিনিধিত্ব

মাসজুড়ে টক শোগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মোট উপস্থিতি ছিল ২৪৬টি। এর মধ্যে নারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মোট উপস্থিতি ছিল ৩১টি (১২.৬%)। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহণ কেবল দুটি দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল:

রাজনৈতিক দলমোট দলীয় উপস্থিতিনারী উপস্থিতি (পর্ব)দলীয় উপস্থিতিতে নারীর শতকরা হারআমন্ত্রিত নারী নেত্রীবৃন্দনারী রাজনৈতিক উপস্থিতির অংশ (৩১টির মধ্যে)
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল১০৩২৫২৪.৩%নিলোফার চৌধুরী মনি (১৫), ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা (৪), হেলেন জেরিন খান (৪), শিরিন সুলতানা (২)৮০.৬%
জাতীয় নাগরিক পার্টি ৫৩৬১১.৩%অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর (৪), মনিরা শারমিন (২)১৯.৪%
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ২৫০০.০%কোনো নারী প্রতিনিধি ছিলেন না০.০%
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী২২০০.০%কোনো নারী প্রতিনিধি ছিলেন না০.০%
এবি পার্টি১৫০০.০%কোনো নারী প্রতিনিধি ছিলেন না০.০%
গণ অধিকার পরিষদ৯০০.০%কোনো নারী প্রতিনিধি ছিলেন না০.০%
বাসদ৫০০.০%কোনো নারী প্রতিনিধি ছিলেন না০.০%
অন্যান্য দলসমূহ১৪০০.০%কোনো নারী প্রতিনিধি ছিলেন না০.০%
সর্বমোট২৪৬৩১১২.৬%৬ জন নারী নেত্রী১০০.০%

রাজনৈতিক দলভিত্তিক মূল পর্যবেক্ষণ:

বিএনপির প্রাধান্য: রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীদের মোট ৩১টি উপস্থিতির ৮০.৬% (২৫টি পর্ব) এসেছে এককভাবে বিএনপি থেকে। দলটির নিজস্ব ১০৩টি উপস্থিতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৪.৩%) ছিল নারীদের দ্বারা পরিচালিত, যার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন নিলোফার চৌধুরী মনি (১৫ বার)।

এনসিপির অংশগ্রহণ: গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে নারী উপস্থিতি ছিল ১১.৩% (৬টি পর্ব), যা দলটির মোট ৫৩টি উপস্থিতির তুলনায় সীমিত হলেও সক্রিয় ছিল।

অন্যান্য দলের শতভাগ পুরুষ নির্ভরতা: জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি, বাসদ, এবি পার্টি কিংবা গণ অধিকার পরিষদের মতো সক্রিয় দলগুলোর পক্ষ থেকে টক শোতে নারী বক্তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল সম্পূর্ণ শূন্য শতাংশ (০%)।

২. পেশাভিত্তিক নারী প্রতিনিধিত্বের অনুপাত

আমন্ত্রিত আলোচকদের পেশাগত ক্ষেত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী আলোচকদের উপস্থিতি কেবল দুটি পেশাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, রাজনীতি এবং একাডেমিয়া/উচ্চশিক্ষা। সাংবাদিকতা, অর্থনীতি, আইন বা নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্রগুলোতে কোনো নারী আলোচকের উপস্থিতি ছিল না।

পেশাভিত্তিক মূল পর্যবেক্ষণ:

দ্বি-পেশাকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধতা (Binary Concentration): মোট ৪৫টি নারী উপস্থিতির ৬৮.৯% (৩১টি) এসেছে রাজনীতি থেকে এবং ৩১.১% (১৪টি) এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক/গবেষক থেকে। এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো পেশা থেকে নারী অতিথিকে স্টুডিওতে আনা হয়নি।

শিক্ষাবিদ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ অনুপাত: সংখ্যাগত দিক থেকে শিক্ষাবিদ ও গবেষক শ্রেণিতে নারীদের অনুপাত ছিল সবচেয়ে জোরালো (৪৫.২%)। এই ক্ষেত্রে মোট ৩১টি উপস্থিতির মধ্যে ১৪টি পর্বেই ছিলেন নারী শিক্ষকগণ (বিশেষ করে অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার ১০টি পর্ব)।

অন্যান্য পেশায় শূন্য প্রতিনিধিত্ব: সম্প্রচারিত টক শোগুলোতে সাংবাদিক ও সম্পাদকদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি ছিল (৯০ বার), অথচ সেখানে একজন নারী সাংবাদিককেও বিশ্লেষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। একইভাবে সামষ্টিক অর্থনীতি, জ্বালানি সংকট, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনি বিতর্কে নারী পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ছিল শতভাগ শূন্য।

উপস্থাপকদের সঞ্চালনা ও লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ

সেপ্টেম্বর ২০২৬ সময়কালে বাংলাদেশের শীর্ষ ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত টেলিভিশন টক শোগুলোর উপস্থাপনা এবং সঞ্চালকদের লিঙ্গভিত্তিক বিন্যাস পর্যালোচনা করলে সম্প্রচার গণমাধ্যমের পর্দায় কাঠামোগত অসামঞ্জস্য ও পুরুষতান্ত্রিক প্রবণতা দৃশ্যমান হয়। নিচে উপস্থাপকদের ব্যক্তিগত কাজের ব্যাপ্তি, চ্যানেলভিত্তিক নারী-পুরুষ উপস্থাপনার পরিসংখ্যান এবং সামগ্রিক ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।

সামগ্রিক উপস্থাপনা ও সঞ্চালকের লিঙ্গভিত্তিক চিত্র

পর্যবেক্ষণ মেয়াদে ১৩টি টেলিভিশন চ্যানেলে টক শো সঞ্চালনায় মোট ৪৭ জন স্বতন্ত্র উপস্থাপক দায়িত্ব পালন করেছেন।

উপস্থাপক ব্যক্তির সংখ্যা ও অনুপাত: মোট ৪৭ জন উপস্থাপকের মধ্যে পুরুষ উপস্থাপক ছিলেন ৩৭ জন (৭৮.৭ শতাংশ) এবং নারী উপস্থাপক ছিলেন মাত্র ১০ জন (২১.৩ শতাংশ)।

সঞ্চালিত পর্বের সংখ্যা ও অনুপাত: মাসব্যাপী সম্প্রচারিত মোট ৩৭০টি পর্বের মধ্যে পুরুষ সঞ্চালকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে ২৬২টি পর্ব (৭০.৮ শতাংশ) এবং নারী সঞ্চালকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে ১০৮টি পর্ব (২৯.২ শতাংশ)।

চ্যানেলভিত্তিক উপস্থাপক ও পর্বভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ

চ্যানেলগুলোর সম্পাদকীয় চর্চা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৩টি চ্যানেলের মধ্যে পরিস্থিতিকে মূলত চারটি ভিন্ন ধারায় ভাগ করা যায়:

১. শতভাগ পুরুষ সঞ্চালক পরিচালিত চ্যানেলসমূহ (নারী উপস্থাপক শূন্য শতাংশ)

যমুনা টিভি: পুরো মাসে মোট ৩০টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। এতে অংশ নেওয়া ৩ জন উপস্থাপকের সবাই পুরুষ (১০০ শতাংশ পুরুষ, ০ শতাংশ নারী)। উপস্থাপকদের মধ্যে রাসেল আহমেদ ১১টি পর্ব, মাহফুজ মিশু ১০টি পর্ব এবং আখলাকুস সাফা ৯টি পর্ব সঞ্চালনা করেছেন।

এখন টিভি: মাসজুড়ে সম্প্রচারিত ২৪টি পর্বের সবকটিই পুরুষ উপস্থাপকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে (১০০ শতাংশ পুরুষ, ০ শতাংশ নারী)। চ্যানেলটির ৬ জন পুরুষ সঞ্চালকের মধ্যে তোফায়েল আহম্মাদ ৮টি, মোস্তফা কামাল স্বপন ৮টি, আসাদুজ্জামান এজি ৩টি, তুষার আব্দুল্লাহ ৩টি, জামান মন্ডল ২টি এবং নোমান আব্দুল্লাহ ১টি পর্ব পরিচালনা করেন।

বাংলাভিশন: মোট প্রচারিত ১৮টি পর্বের শতভাগই পরিচালনা করেছেন পুরুষ সঞ্চালকগণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত ৫ জন পুরুষ উপস্থাপকের মধ্যে তাইমুর রশিদ ৮টি, মতিউর রহমান চৌধুরী ৬টি, রিশান নাসরুল্লাহ ৩টি, জিয়াউল হক সবুজ ২টি এবং সিকান্দার রেমান ১টি পর্ব সঞ্চালনা করেন।

আরটিভি: প্রচারিত ২৪টি পর্বের সবকটি সঞ্চালিত হয়েছে পুরুষদের দ্বারা (১০০ শতাংশ পুরুষ, ০ শতাংশ নারী)। তাদের ৪ জন সঞ্চালকের মধ্যে ড. সাইফুল হক ১০টি, ড. তৌহিদুল হক ৬টি, সৈয়দ আশিক রহমান ৪টি এবং ইলিয়াস হোসেন ৪টি পর্ব সঞ্চালনা করেছেন।

এসএ টিভি: সম্প্রচারিত ২১টি পর্বের সবকটিই পুরুষ সঞ্চালকরা পরিচালনা করেন। এতে জাহিদুর রহমান খান ১৭টি এবং সালাউদ্দিন সাদি ৪টি পর্ব সঞ্চালনা করেন।

চ্যানেল আই: চ্যানেলটির ফ্ল্যাগশিপ রাজনৈতিক টক শো তৃতীয় মাত্রা-র প্রচারিত ২২টি পর্ব এককভাবে সঞ্চালনা করেছেন পুরুষ সঞ্চালক জিল্লুর রহমান, ফলে এখানেও নারী প্রতিনিধিত্ব ছিল শূন্য শতাংশ।

২. পুরুষ সঞ্চালক-প্রধান চ্যানেলসমূহ

সময় টিভি: মোট ৩০টি পর্বের সঞ্চালনায় যুক্ত ছিলেন ৪ জন উপস্থাপক। এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ (৭৫ শতাংশ) এবং ১ জন নারী (২৫ শতাংশ)। তবে পর্ব সংখ্যার হিসাবে পুরুষ প্রাধান্য আরও বেশি; পুরুষ সঞ্চালকরা পরিচালনা করেছেন ২৬টি পর্ব (৮৬.৭ শতাংশ) এবং একমাত্র নারী সঞ্চালক জিন্নাত আরা জশোয়া সঞ্চালনা করেছেন মাত্র ৪টি পর্ব (১৩.৩ শতাংশ)। পুরুষ সঞ্চালকদের মধ্যে মুজতবা খন্দকার ১০টি, আফজাল হোসেন ৮টি এবং জাফর সাদিক ৮টি পর্ব পরিচালনা করেছেন।

চ্যানেল ২৪: মোট ২৭টি পর্বের জন্য সঞ্চালক ছিলেন ৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ জন (৭৫ শতাংশ) এবং নারী ১ জন (২৫ শতাংশ)। পর্বের হিসাবে পুরুষ সঞ্চালক মাহমুদুর রহমান মান্না একাই ২০টি পর্ব, জহিরুল আলম ১টি এবং মোর্শেদ হাসিব ১টি পর্ব সঞ্চালনা করায় পুরুষদের ভাগ দাঁড়িয়েছে ৮১.৫ শতাংশ। বিপরীতে একমাত্র নারী সঞ্চালক জান্নাতুন নাঈম পরিচালনা করেছেন ৫টি পর্ব (১৮.৫ শতাংশ)।

৩. নারী সঞ্চালক-প্রধান চ্যানেলসমূহ

নিউজ ২৪: মোট ৫১টি পর্বের সঞ্চালনায় ৫ জন উপস্থাপকের মধ্যে ৩ জনই ছিলেন নারী (৬০ শতাংশ) এবং ২ জন পুরুষ (৪০ শতাংশ)। সঞ্চালিত পর্বের দিক থেকে নারীদের প্রাধান্য ছিল অভাবনীয়; মোট ৫১টি পর্বের মধ্যে ৪১টি পর্ব (৮০.৪ শতাংশ) পরিচালনা করেছেন নারী উপস্থাপকগণ। এর মধ্যে ফারনাজ জুঁই একাই ২৩টি, জান্নাতুল কলি ১৫টি এবং জান্নাতুল সাদিয়া ৩টি পর্ব পরিচালনা করেন। বিপরীতে দুই পুরুষ সঞ্চালক রিশাদ হাসান (৯টি) ও বদরুল আলম শাওন (১টি) মিলে পরিচালনা করেছেন মাত্র ১০টি পর্ব (১৯.৬ শতাংশ)।

ডিবিসি নিউজ: চ্যানেলটির নিয়মিত টক শো রাজকাহন-এর ১৫টি পর্বের শতভাগই পরিচালনা করেছেন একক নারী সঞ্চালক তাসনুভা তন্বী, যার ফলে চ্যানেলটিতে নারী সঞ্চালনার হার ছিল শতভাগ।

৪. তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ও মিশ্র চ্যানেলসমূহ

দুটি চ্যানেলে নারী ও পুরুষ সঞ্চালকদের মধ্যে একটি দৃশ্যমান ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা ছিল।

একাত্তর টিভি: চ্যানেলটির একাত্তর জার্নাল-এর ২০টি পর্ব পরিচালনায় ছিলেন ২ জন উপস্থাপক, ১ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী (উভয়েই ৫০ শতাংশ)। সঞ্চালিত পর্বের দিক থেকেও এটি প্রায় সমান ছিল; রাকিব হাসান পরিচালনা করেছেন ১১টি পর্ব (৫৫ শতাংশ) এবং তানিয়া রহমান পরিচালনা করেছেন ৯টি পর্ব (৪৫ শতাংশ)।

স্টার নিউজ: মোট ২৮টি পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন ৩ জন উপস্থাপক, ২ জন পুরুষ (৬৬.৭ শতাংশ) এবং ১ জন নারী (৩৩.৩ শতাংশ)। তবে পর্ব বণ্টনের দিক থেকে নারী সঞ্চালক শান্তা শারলিন ১২টি পর্ব (৪২.৯ শতাংশ) পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। পুরুষ সঞ্চালকদের মধ্যে ফারাবী হাফিজ ১২টি এবং মনিরুল ইসলাম ৪টি পর্ব (সম্মিলিতভাবে ৫৭.১ শতাংশ) পরিচালনা করেন।

চ্যানেল ওয়ান: মাসজুড়ে ৫৭টি পর্বের সঞ্চালনায় যুক্ত ছিলেন ৭ জন উপস্থাপক,৫ জন পুরুষ (৭১.৪ শতাংশ) এবং ২ জন নারী (২৮.৬ শতাংশ)। তবে মূল দুই সঞ্চালক মীর আহসান (পুরুষ, ২১টি পর্ব) এবং তানিয়া হারুন (নারী, ১৯টি পর্ব)-এর মধ্যে প্রায় সমান কাজের বণ্টন ছিল। অপর নারী সঞ্চালক ঝুমি রহমান ৩টি পর্ব পরিচালনা করায় চ্যানেলটিতে নারী উপস্থাপনার মোট হার দাঁড়ায় ৩৮.৬ শতাংশ (২২টি পর্ব) এবং পুরুষ উপস্থাপনা ছিল ৬১.৪ শতাংশ (৩৫টি পর্ব)।

উপাত্তের সামগ্রিক পর্যালোচনা থেকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, টেলিভিশন টক শোগুলোতে লিঙ্গ ভারসাম্য রক্ষা হয়নি। বাহ্যিকভাবে মোট পর্বের প্রায় ২৯.২ শতাংশ নারী সঞ্চালকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে মনে হলেও, এটি সামগ্রিক ভারসাম্যকে তুলে ধরে না। এই সংখ্যাটি মূলত নিউজ ২৪ (ফারনাজ জুঁই ও জান্নাতুল কলি) এবং ডিবিসি নিউজের (তাসনুভা তন্বী) অবদানের কারণে ত্বরান্বিত হয়েছে। এই দুটি চ্যানেল বাদ দিলে পুরো সম্প্রচারে নারী উপস্থাপনাইয় পুরুষ উপস্থাপকের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৩টি মূলধারার চ্যানেলের মধ্যে ৬টি চ্যানেলে (যমুনা টিভি, বাংলাভিশন, এখন টিভি, আরটিভি, এসএ টিভি ও চ্যানেল আই) পুরো মাসে একজন নারী উপস্থাপককেও উপস্থাপনার সুযোগ না দেওয়া গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গির কাঠামোগত দুর্বলতা নির্দেশ করে।

টক শো-তে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতার বিন্যাস

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর টক শোগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ পর্যালোচনা করলে দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক কাঠামোর স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। আওয়ামী লীগ পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বামপন্থী দলসমূহ এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার ক্ষমতার ভারসাম্য টকশোর আলোচক নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

রাজনৈতিক দল / জোটমোট উপস্থিতিপ্রধান আলোচকবৃন্দদলীয় উপস্থিতির শতকরা হার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)১০৩নিলোফার চৌধুরী মনি (১৫), আজিজুল বারী হেলাল (১১), কামরুজ্জামান রতন (৮), মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর (৮), ড. আসাদুজ্জামান রিপন (৮), শহিদুল ইসলাম বাবুল (৫), ফজলে হুদা বাবুল (৪), ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা (৪), হেলেন জেরিন খান (৪), এবিএম মোশাররফ হোসেন (৪)৪৪.৬%
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)৫৩সারোয়ার তুষার (১৪), তাহসিন রিয়াজ (৯), আরিফুল ইসলাম আদীব (৬), ফরিদুল হক (৫), আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (৪), এস এম সাইফ মোস্তাফিজ (৪), হুমায়রা নূর (৪), সারজিস আলম (২), মনিরা শারমিন (২)২৩.০%
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)২৫রুহিন হোসেন প্রিন্স (১৩), ড. সাজিদুল হক রুবেল (১০), আব্দুল্লাহ আল কাফী রতন (২)১০.৮%
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির২২ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ (৫), অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান (৫), কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন (২), মিয়া গোলাম পরওয়ার (২), মো. সালাউদ্দিন আইয়ুবী (২), ড. মুহাম্মদ আবদুল মান্নান (২), শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক (২)৯.৫%
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)১৫মজিবুর রহমান মঞ্জু (১০), ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (৫)৬.৫%
গণ অধিকার পরিষদ৯ফারুক হাসান (৭), হাসান আল মামুন (২)৩.৯%
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)৫রাজেকুজ্জামান রতন (৫)২.২%
গণসংহতি আন্দোলন৩আবুল হাসান রুবেল (৩)১.৩%
বাংলাদেশ লেবার পার্টি (১১ দলীয় জোট)৩ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (৩)১.৩%
অন্যান্য দলসমূহ (জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, এনপিএ, খেলাফত মজলিস)৮শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন (২), মাহমুদুর রহমান মান্না (২), অনিক রায় (২), মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী (২)৩.৫%

প্রাপ্ত তথ্যের রাজনৈতিক বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টক শোতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মোট উপস্থিতির ৪৪.৬ শতাংশ দখল করে বিএনপি একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। মাঠের রাজনীতির প্রধান দাবিদার হিসেবে বিএনপি দলীয় সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের প্রায় প্রতিটি চ্যানেলের প্রাইম-টাইম বিতর্কে উপস্থিত রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা তরুণদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে স্টুডিওতে জায়গা করে নিয়েছে, যা মোট দলীয় উপস্থিতির ২৩.০ শতাংশ। সারোয়ার তুষার, তাহসিন রিয়াজ এবং আরিফুল ইসলাম আদীবের মতো তরুণ বক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পক্ষে জোরালো বয়ান তৈরি করেছেন।

বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় অবস্থান না থাকলেও তাত্ত্বিক ও নীতিগত বিতর্কে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (১০.৮%) এবং বাসদ (২.২%) নিয়মিত জায়গা পেয়েছে। বিশেষ করে রুহিন হোসেন প্রিন্স ও ড. সাজিদুল হক রুবেল অর্থনৈতিক সংকট, পে-স্কেল এবং শ্রমিক অধিকারের ইস্যুতে জোরালো উপস্থিতি রেখেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উপস্থিতি মোট রাজনৈতিক উপস্থিতির ৯.৫ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। তারা মূলত আইনশৃঙ্খলা সংস্কার, নতুন বিশেষায়িত বাহিনী এসআরবি গঠন এবং জোটবদ্ধ রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কে অংশ নিয়েছেন।

পেশাগত বৈচিত্র্য ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞের অন্তর্ভুক্তি

পেশাগত ক্ষেত্রউপস্থিতির সংখ্যাপ্রধান প্রতিনিধি ও ব্যক্তিত্বপ্রধান আলোচিত ক্ষেত্র
সাংবাদিক ও সম্পাদক৯০রেজাউল করিম রনি, সাহেদ আলম, মাসুদ কামাল, সোহরাব হাসান, আকবর হোসেন, সাঈদ খান, আনিস আলমগীর, হাসান মামুন, জহিরুল আলম, রাহীদ এজাজরাজনীতি, বৈদেশিক সম্পর্ক, সংসদীয় বিতর্ক, মব সহিংসতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
শিক্ষাবিদ ও গবেষক৩১অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন, অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম মিথিল, ড. নাহরিন ইসলাম খানসুশাসন, সংবিধান সংস্কার, ভূরাজনীতি, সমাজতাত্ত্বিক অস্থিরতা ও শিক্ষা খাত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক২৬শরিফুজ্জামান শরিফ, গোলাম মাওলা রনি, ড. মারুফ মল্লিকঅন্তর্বর্তী সরকারের রোডম্যাপ, জোটের মেরুকরণ ও কূটনৈতিক সংকট
আইনজীবী (সুপ্রিম কোর্ট)১৮ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, মাহফুজুর রহমান মিলন, হাসান তারেক চৌধুরীসংবিধান সংশোধন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, সাইবার নিরাপত্তা আইন ও মৌলিক অধিকার
নিরাপত্তা ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক/পুলিশ৬ব্রি. জে. (অব.) এটিএম জিয়াউল হাসান, মেজর (অব.) ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, এ কে এম শহিদুর রহমানআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, র্যাব রূপান্তর/এসআরবি, গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও রোহিঙ্গা সংকট
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক৬ড. মুশতাক হোসেন, ডা. আব্দুন নূর তুষারওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার
অর্থনীতিবিদ২ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পে-স্কেল ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অভিঘাত
কূটনীতিক২এম হুমায়ুন কবির (সাবেক রাষ্ট্রদূত)জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মধ্যপ্রাচ্য/মক্কা চুক্তি সমীকরণ
মানবাধিকার কর্মী২নূর খান লিটনগুম প্রতিরোধ আইন, নাগরিক নিরাপত্তা ও মব জাস্টিস
সাবেক আমলা ও প্রশাসন৫আবু আলম শহিদ খান, মোঃ রাশেদ খানসরকারি পে-স্কেল, প্রশাসনিক সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন

চ্যানেলগুলোর সম্পাদকীয় কৌশল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন চ্যানেল তাদের টপিক অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পেশার বিশেষজ্ঞদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। যমুনা টিভি জনস্বাস্থ্য, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের মতো নাগরিক সংকটের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন এবং ভোক্তা অধিকার ও আইনি সুরক্ষায় ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে একাধিকবার স্টুডিওতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

চ্যানেল ২৪ আন্তর্জাতিক কূটনীতি, ভূরাজনীতি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সংক্রান্ত পর্যালোচনায় সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিনের ওপর সর্বাধিক আস্থা রেখেছে। সামষ্টিক অর্থনীতি ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে চ্যানেলটি অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমকে প্রাধান্য দেয়।

নিউজ ২৪ এবং সময় টিভি মূলত রাজনৈতিক সংঘাত, সংসদীয় বিরোধ এবং সংবিধান সংশোধন বিতর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সম্পাদকদের যুক্ত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আইনি মারপ্যাঁচ ও রাজনৈতিক কৌশল বিশ্লেষণই ছিল তাদের মূল ফোকাস।

আরটিভি নাগরিক নিরাপত্তা, পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গুম প্রতিরোধ আইনের পর্যালোচনায় মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন এবং পুলিশের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ কে এম শহিদুর রহমানকে প্ল্যাটফর্ম প্রদান করেছে।

চ্যানেল-ভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও আলোচকদের সারণি

নিম্নে দেশের ১৩টি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত টক শোর সম্প্রচার প্যাটার্ন, সঞ্চালনা কাঠামো এবং অংশগ্রহণকারী আলোচকদের তথ্যসারণি বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলো।

সময় টিভি: সম্পাদকীয়

সময় টিভির দৈনিক টক শো ‘সম্পাদকীয়’-তে মোট ৩০টি পর্বের বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মব সন্ত্রাস এবং অভ্যন্তরীণ দলীয় রাজনীতির বিভিন্ন মাত্রা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উপস্থাপনা পরিচালনা করেছেন চারজন সঞ্চালক: মুজতবা খন্দকার (১০টি পর্ব), আফজাল হোসেন (৮টি পর্ব), জাফর সাদিক (৮টি পর্ব) এবং জিন্নাত আরা জশোয়া (৪টি পর্ব)। সঞ্চালকদের মধ্যে পুরুষ ৭৫ শতাংশ এবং নারী ২৫ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
ব্যারিস্টার আল মামুন রাসেলআইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট৩০২ সেপ্টেম্বর: রাজনীতির নীতি; ১৩ সেপ্টেম্বর: কার সাথে কার আঁতাত; ২৫ সেপ্টেম্বর: গণতন্ত্রের শত্রু-মিত্র
নিলোফার চৌধুরী মনিসংসদ সদস্য, বিএনপি৩০৩ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে মত-দ্বিমত; ১৩ সেপ্টেম্বর: কার সাথে কার আঁতাত; ২৪ সেপ্টেম্বর: ভেতরে গুপ্তদের বাতাস
সাহেদ আলমসাংবাদিক ও বিশ্লেষক৩০৩ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে মত-দ্বিমত; ১৪ সেপ্টেম্বর: ছাগলকাণ্ড থেকে ডাকসু বিভ্রাট; ২৭ সেপ্টেম্বর: প্রশ্নের মুখে আইন-শৃঙ্খলা
আকবর হোসেনসাংবাদিক৩০২ সেপ্টেম্বর: রাজনীতির নীতি; ১৭ সেপ্টেম্বর: সরকার কোন পথে?; ২৬ সেপ্টেম্বর: দোষারোপের মাঝে ফ্যাসিস্টের উঁকি
ড. মারুফ মল্লিকরাজনৈতিক বিশ্লেষক৩১০ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক!; ২১ সেপ্টেম্বর: এরা কারা?; ৩০ সেপ্টেম্বর: রাজপথই কি সমাধান?
সারোয়ার তুষারযুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি৩১০ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক!; ২২ সেপ্টেম্বর: এতকিছুর পরেও জনপ্রতিনিধি?; ৩০ সেপ্টেম্বর: রাজপথই কি সমাধান?

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

স্টার নিউজ: কড়া আলাপ

স্টার নিউজের ‘কড়া আলাপ’ অনুষ্ঠানে ২৮টি পর্বের পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন বনাম সরকারের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নিয়োগ পরীক্ষার অসঙ্গতির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। শান্তা শারলিন (১২টি পর্ব), ফারাবী হাফিজ (১২টি পর্ব) এবং মনিরুল ইসলাম (৪টি পর্ব) সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। উপস্থাপনায় নারী ৩৩.৩৩ শতাংশ এবং পুরুষ ৬৬.৬৭ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসেক্রেটারি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব বিভাগ, জামায়াতে ইসলামী৩০৫ সেপ্টেম্বর: লংমার্চের রাজনীতি ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ; ১৬ সেপ্টেম্বর: এসআরবি’র যাত্রা; ২০ সেপ্টেম্বর: জ্বালানি সংকট: দায় কার, কষ্ট কার?
তাহসিন রিয়াজযুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি৩১০ সেপ্টেম্বর: সংকট মোকাবিলার ঐক্য ও ভাইবা নম্বর বিতর্ক; ১৭ সেপ্টেম্বর: ইসি বনাম সরকার: সমন্বয়হীনতা নাকি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব?; ২৮ সেপ্টেম্বর: ভাঙচুর, দখল আর রাজনীতি: বদলাবে কি চিত্র?
আশরাফ কায়সারসাংবাদিক২০২ সেপ্টেম্বর: জামায়াতে যোগদান: আদর্শ নাকি দল ভারীর কৌশল?; ১০ সেপ্টেম্বর: সংকট মোকাবিলার ঐক্য

(নোট:  অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

যমুনা টিভি

যমুনা টিভিতে সম্প্রচারিত ৩০টি পর্বে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি, ওষুধের দাম, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, সংসদীয় কার্যপ্রণালী এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। উপস্থাপনা প্যানেলে ছিলেন রাসেল আহমেদ (১১টি পর্ব), মাহফুজ মিশু (১০টি পর্ব) এবং আখলাকুস সাফা (৯টি পর্ব)। কোনো নারী সঞ্চালক না থাকায় এখানে পুরুষ উপস্থাপক ছিল ১০০ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
আজিজুল বারী হেলালসংসদ সদস্য ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক, বিএনপি৩০৮ সেপ্টেম্বর: জ্বালানি সংকটের সমাধান কীভাবে?; ১২ সেপ্টেম্বর: দুদকের নজরে আসিফ মাহমুদ; ২৫ সেপ্টেম্বর: এত উড়োজাহাজ দিয়ে কী হবে?
আরিফুল ইসলাম আদীবসিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি৩০৯ সেপ্টেম্বর: সংসদে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট; ১২ সেপ্টেম্বর: দুদকের নজরে আসিফ মাহমুদ; ২০ সেপ্টেম্বর: নোট অফ ডিসেন্ট সামনে আনছে বিএনপি
শরিফুজ্জামান শরিফসাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন৩০৩ সেপ্টেম্বর: রাজনীতির প্লাস-মাইনাস; ১৫ সেপ্টেম্বর: ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি; ২৯ সেপ্টেম্বর: সংবিধান সংশোধন ও আইনশৃঙ্খলা

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

চ্যানেল ২৪

চ্যানেল ২৪-এর ‘মুক্তবাক’ ও ‘মুক্তকণ্ঠ’ অনুষ্ঠানে ২৭টি পর্বের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, ব্রিকস সম্মেলন, জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ এবং জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকেন্দ্রিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সঞ্চালনায় মাহমুদুর রহমান মান্না একাই ২০টি পর্ব পরিচালনা করে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন। এছাড়া জান্নাতুন নাঈম ৫টি পর্ব, জহিরুল আলম ১টি পর্ব এবং মোর্শেদ হাসিব ১টি পর্ব সঞ্চালনা করেন। উপস্থাপনায় পুরুষ ৭৫ শতাংশ এবং নারী ২৫ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
রুহুল কবির রিজভীভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বিএনপি২০৬ সেপ্টেম্বর: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব; ০৮ সেপ্টেম্বর: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
মিয়া গোলাম পরওয়ারসেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী২০৬ সেপ্টেম্বর: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব; ০৮ সেপ্টেম্বর: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
এম হুমায়ুন কবিরসাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতি বিশ্লেষক২০৩ সেপ্টেম্বর: মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ?; ২৫ সেপ্টেম্বর: এবারের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

নিউজ ২৪

নিউজ ২৪-এ মাসজুড়ে ৫১টি দীর্ঘ পর্ব প্রচারিত হয়, যা সম্প্রচারিত উপাত্তের মধ্যে সর্বাধিক। এখানে আলোচনাগুলো মূলত তিনটি ফরম্যাটে বিন্যস্ত ছিল, ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’, ‘নতুন বাংলাদেশ’ এবং ‘ন্যারেটিভ’। এতে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া, যুদ্ধাপরাধ ও ক্ষমা প্রার্থনার রাজনীতি এবং বিরোধী জোটের আন্দোলনের গতিপথের ওপর তাত্ত্বিক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। ফারনাজ জুঁই ২৩টি পর্ব পরিচালনা করে শীর্ষ সঞ্চালক ছিলেন। এছাড়া জান্নাতুল কলি ১৫টি, রিশাদ হাসান ৯টি, জান্নাতুল সাদিয়া ৩টি এবং বদরুল আলম শাওন ১টি পর্ব পরিচালনা করেন। এখানে নারী সঞ্চালকের হার ছিল ৬০ শতাংশ এবং পুরুষ ৪০ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
শরিফুজ্জামান শরীফসাবেক ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক৬০৩ সেপ্টেম্বর: বিরোধীদের লংমার্চ ও বাধার আশঙ্কা; ০৯ সেপ্টেম্বর: সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি; ১৪ সেপ্টেম্বর: ভূরাজনীতির বাস্তবতা ও আমাদের রাজনীতি; ২১ সেপ্টেম্বর: সংস্কার কোথায় দরকার: সংবিধানে নাকি মননে?; ২৩ সেপ্টেম্বর: সরকার চ্যালেঞ্জের মুখে আছে; ২৮ সেপ্টেম্বর: দখল, ভাঙচুর, মব-কি হচ্ছে এসব?
ড. সাজিদুল হক রুবেলকেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, সিপিবি৫০১ সেপ্টেম্বর: নতুন পে স্কেল ও জনজীবনে প্রভাব; ০৬ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে কথার উত্তাপ; ১১ সেপ্টেম্বর: ব্রিকসে না ও ড. ইউনূসের কর; ১৬ সেপ্টেম্বর: ন্যায়বিচার ও দণ্ডপ্রাপ্তদের ফেরত আনা; ২২ সেপ্টেম্বর: সংবিধান সংশোধন কমিটি ও সংকট; ২৯ সেপ্টেম্বর: সংবিধান বদল: ঐকমত্য নাকি সংখ্যার জোর?
রেজাউল করিম রনিসাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক৫০১ সেপ্টেম্বর: নতুন পে স্কেল ও জনজীবন; ১১ সেপ্টেম্বর: ব্রিকসে না ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি; ১৫ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস; ২৫ সেপ্টেম্বর: গুপ্ত ও নৈরাজ্যের রাজনীতি; ৩০ সেপ্টেম্বর: ব্ল্যাকমেইল ও রাজনৈতিক সমীকরণ
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসাধারণ সম্পাদক, এবি পার্টি৫০৪ সেপ্টেম্বর: রাজনীতির মাঠ কি উত্তপ্ত হচ্ছে?; ০৫ সেপ্টেম্বর: ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক; ০৯ সেপ্টেম্বর: আলোচনায় সংসদ ও রাজপথ; ১৭ সেপ্টেম্বর: বিগত সরকারের প্রলোভনের রাজনীতি; ২৯ সেপ্টেম্বর: সংবিধান বদল: ঐকমত্য নাকি সংখ্যার জোর?
রুহিন হোসেন প্রিন্সসাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিপিবি৪০৬ সেপ্টেম্বর: সংকট ও সম্ভাবনার রাজনীতি; ১৪ সেপ্টেম্বর: সংস্কার প্রশ্নে দূরত্ব সরকার-বিরোধীদের; ১৯ সেপ্টেম্বর: জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার বিতর্ক; ২৭ সেপ্টেম্বর: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
গোলাম মাওলা রনিসাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক৪০৩ সেপ্টেম্বর: জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা; ০৭ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে কেন আল্টিমেটাম?; ২০ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে ১ দফার হুমকি; ২৬ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
অধ্যাপক ডক্টর তৌফিকুল ইসলাম মিথিলসমাজবিজ্ঞানী ও রাজনীতি বিশ্লেষক৪০১ সেপ্টেম্বর: রাষ্ট্রের সার্বিক হালচাল; ০৮ সেপ্টেম্বর: লংমার্চ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব; ১৫ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস; ২৫ সেপ্টেম্বর: অসহিষ্ণু অবস্থা, রাজনীতি ও ভূরাজনীতি
ডক্টর আসাদুজ্জামান রিপনভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি৪০২ সেপ্টেম্বর: বিএনপির রাজনীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্র; ১৩ সেপ্টেম্বর: সংকটের কথা বলায় বাধা কোথায়?; ২১ সেপ্টেম্বর: দফার রাজনীতি ও নাগরিক নিরাপত্তা; ২৮ সেপ্টেম্বর: আসল ক্রিমিনালটা কে? ও সংবিধান সংশোধন বিতর্ক
প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ রায়হানকলামিস্ট ও বিশ্লেষক৪০৩ সেপ্টেম্বর: বিরোধীদের লংমার্চ ও আশঙ্কা; ১০ সেপ্টেম্বর: সংসদে বিতর্কের উত্তাপ; ১৬ সেপ্টেম্বর: ন্যায়বিচার ও বন্দি প্রত্যাবাসন; ২৩ সেপ্টেম্বর: জনগণ কতটা সহনশীল?
অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা স্নিগ্ধাঅধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়৪০৯ সেপ্টেম্বর: সংসদে ও রাজপথে অস্থিরতা; ১৮ সেপ্টেম্বর: স্থানীয় নির্বাচন ও সমন্বয়হীনতা; ২৪ সেপ্টেম্বর: সমাজ ও রাজনীতির সহিংস অস্থিরতা; ২৮ সেপ্টেম্বর: আসল ক্রিমিনালটা কে?
ব্যারিস্টার ওমর ফারুকসিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট৩০৭ সেপ্টেম্বর: রাজনীতির আলোচনায় আবার গুপ্ত; ১৯ সেপ্টেম্বর: জামায়াতের রাজনৈতিক অধিকার বিতর্ক; ২৫ সেপ্টেম্বর: গুপ্ত ও নৈরাজ্যের রাজনীতি
রাজেকুজ্জামান রতনসহ-সাধারণ সম্পাদক, বাসদ৩০৫ সেপ্টেম্বর: রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা; ১০ সেপ্টেম্বর: আন্দোলন নাকি সংসদ?; ২৮ সেপ্টেম্বর: অপরাধ ও সংবিধান বিতর্ক
আবু সাঈদ খানসিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক৩০১, ০২ ও ২১ সেপ্টেম্বর: রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমসাময়িক রাজনীতি
আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহসদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিএনপি৩০৪, ১৭ ও ২৩ সেপ্টেম্বর: মাঠের রাজনীতি ও বিরোধীদের অবস্থান
আবুল হাসান রুবেলনির্বাহী সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন৩০৪, ১৫ ও ৩০ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস ও সমসাময়িক সংকট
নিলুফার চৌধুরী মনিসংসদ সদস্য ও সহ-সম্পাদক, বিএনপি৩০৮, ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর: সংসদীয় সংকট ও রাজনৈতিক সংঘাত
মোঃ রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী৩০৬, ১৬ ও ২৮ সেপ্টেম্বর: প্রশাসনিক সংস্কার ও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি
ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনসিনিয়র আইনজীবী ও সদস্য, বার কাউন্সিল৩০১, ১৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর: আইনের শাসন ও সাংবিধানিক জটিলতা
এডভোকেট হাসান তারেক চৌধুরীআইনজীবী ও সাবেক ছাত্রনেতা৩১০, ১৬ ও ২৩ সেপ্টেম্বর: বিচারহীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা
ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানচেয়ারম্যান, লেবার পার্টি ও জোট নেতা৩১০, ২২ ও ২৮ সেপ্টেম্বর: বিরোধী জোটের সমীকরণ

(নোট: ২ বার করে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট আলোচক: শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ড. আব্দুল নূর তুষার, মেজর অব. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, সোহরাব হাসান, ফারুক হাসান, আজিজুল বারী হেলাল, হাসান আল মামুন, এডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন, মাসুদ কামাল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেদ, মোশারফ আবেদ, মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী ও আনিস আলমগীর)

এখন টিভি

এখন টিভির ‘এখন প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি পর্বে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক বিতর্ক, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত নীতি-নির্ধারণী প্রশ্ন আলোচিত হয়েছে। উপস্থাপনা করেছেন ছয়জন সঞ্চালক: তোফায়েল আহম্মাদ (৮টি পর্ব), মোস্তফা কামাল স্বপন (৮টি পর্ব), আসাদুজ্জামান এজি (৩টি পর্ব), তুষার আব্দুল্লাহ (৩টি পর্ব), জামান মন্ডল (৩টি পর্ব) এবং নোমান আব্দুল্লাহ (১টি পর্ব)। শতভাগ পুরুষ সঞ্চালক দ্বারা অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়েছে।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
মজিবুর রহমান মঞ্জুচেয়ারম্যান, এবি পার্টি২০৭ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে উত্তাপ (ক্ষমতায় ভোল বদল); ১৭ সেপ্টেম্বর: স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন পেছাতে চায় সরকার?
ড. আসাদুজ্জামান রিপনভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি২১৬ সেপ্টেম্বর: ইতিহাস চিরঅম্লান: জিন্নাহর ছবি বিতর্ক; ২৭ সেপ্টেম্বর: বিশ্বকে বাংলাদেশের বার্তা
শরীফুজ্জামান শরীফরাজনৈতিক বিশ্লেষক২১৬ সেপ্টেম্বর: ইতিহাস চিরঅম্লান: জিন্নাহর ছবি বিতর্ক; ২৮ সেপ্টেম্বর: সাইবার সুরক্ষা দেবে কাকে?
নিলোফার চৌধুরী মনিসংসদ সদস্য, বিএনপি২০৭ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে উত্তাপ ও ক্ষমতার রূপান্তর; ২৮ সেপ্টেম্বর: সাইবার সুরক্ষা দেবে কাকে?

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণ ১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

চ্যানেল ওয়ান

চ্যানেল ওয়ানে সর্বাধিক ৬০টি পর্বের তথ্য পাওয়া যায়, যা ‘নির্বাচিত খবর’ ও ‘কঠিন কথা সহজে’ নামক দুটি প্রধান শোতে সম্প্রচারিত হয়। এগুলোতে বিতর্কিত রাষ্ট্রীয় ইস্যু যেমন র্যাব বিলুপ্তি ও স্পেশাল র‍্যাপিড ব্যাটালিয়ন (SRB) গঠন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ এবং বাজার সিন্ডিকেট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সঞ্চালনায় মীর আহসান (২১টি পর্ব) ও তানিয়া হারুন (১৯টি পর্ব) মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া আমীন আল রশীদ ৬টি, নয়ন আদিত্য ৩টি, ঝুমি রহমান ৩টি, আশফাক আহমেদ ৩টি এবং পারভেজ রেজা ২টি পর্ব পরিচালনা করেন। উপস্থাপনায় পুরুষ ৭১.৪৩ শতাংশ এবং নারী ২৮.৫৭ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
তাহসিন রিয়াজযুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি৪০৫ সেপ্টেম্বর: লংমার্চ: নট সফট, নট হার্ড!; ০৭ সেপ্টেম্বর: লংমার্চের উদ্দেশ্য ও অর্জন; ২০ সেপ্টেম্বর: এখনই ১ দফা!; ২৬ সেপ্টেম্বর: জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক ও সাইবার আইন
রুহিন হোসেন প্রিন্সসাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিপিবি৩০৪ সেপ্টেম্বর: বিএনপির হাতেই র্যাবের জন্ম ও বিলুপ্তি; ১০ সেপ্টেম্বর: জ্বালানি সংকটে কী করছে সরকার?; ২১ সেপ্টেম্বর: সংবিধান সংশোধনে ১১ দলের আপত্তি কেন?
গোলাম মাওলা রনিরাজনৈতিক বিশ্লেষক৩০২ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের খুশির বার্তা!; ০৮ সেপ্টেম্বর: জ্বালানি সংকটে জামায়াতের সহযোগিতার প্রস্তাব; ১৫ সেপ্টেম্বর: তর্ক-বিতর্কে জিন্নাহ-মুজিব-আজমের ছবি
হাসান মামুনসাংবাদিক ও কলামিস্ট৩০৫ সেপ্টেম্বর: লংমার্চ: নট সফট, নট হার্ড!; ১৯ সেপ্টেম্বর: হঠাৎ কেনো সিরিজ ককটেল বিস্ফোরণ?; ২৮ সেপ্টেম্বর: বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই
শাহেদ আলমজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক৩০৭ সেপ্টেম্বর: উত্তপ্ত সংসদে তিন বিল পাস; ২০ সেপ্টেম্বর: সহিংসতা বাড়ছে কেন?; ২৭ সেপ্টেম্বর: দখল-চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না কেন?
মো. সাইফুল আলম চৌধুরীশিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ঢাবি৩০৪ সেপ্টেম্বর: চলে যাচ্ছে র্যাব, আসছে SRB; ১১ সেপ্টেম্বর: গালাগালির সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান; ২৬ সেপ্টেম্বর: জাসদের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

একাত্তর টিভি: একাত্তর জার্নাল

একাত্তর টিভির নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘একাত্তর জার্নাল’-এ ২০টি পর্বের তথ্য সংকলিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং রাজপথের রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে নিয়মিত প্যানেল বাহাস হয়েছে। রাকিব হাসান ১১টি পর্ব এবং তানিয়া রহমান ৯টি পর্ব সঞ্চালনা করেন। জেন্ডার অনুপাতে এটি ভারসাম্যপূর্ণ সঞ্চালনা প্রদর্শন করেছে (পুরুষ ৫০ শতাংশ, নারী ৫০ শতাংশ)।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও অনুষ্ঠান
সরওয়ার তুষারযুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি৩০৩, ১৩ ও ২৩ সেপ্টেম্বর: একাত্তর জার্নাল
অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানরাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক২০৪ ও ১৮ সেপ্টেম্বর: একাত্তর জার্নাল
এস এম সাইফ মোস্তাফিজযুগ্ম সদস্য সচিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি২০৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর: একাত্তর জার্নাল

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

বাংলাভিশন

বাংলাভিশনের ১৮টি পর্বে সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বিরোধী রাজনৈতিক ফ্রন্টের ঐক্য নিয়ে জোরদার বিতর্ক হয়। অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ‘গণতন্ত্র এখন’, ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ এবং ‘Front Line’ উল্লেখযোগ্য। সঞ্চালনায় তাইমুর রশিদ ৮টি, মতিউর রহমান চৌধুরী ৬টি, রিশান নাসরুল্লাহ ৩টি, জিয়াউল হক সবুজ ২টি এবং সিকান্দার রেমান ১টি পর্ব পরিচালনা করেন। সঞ্চালকদের মধ্যে শতভাগ পুরুষ প্রতিনিধিত্ব ছিল।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও অনুষ্ঠান
ড. আসাদুজ্জামান রিপনভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি৩০৪ সেপ্টেম্বর ও ০২ অক্টোবর: গণতন্ত্র এখন; ২২ সেপ্টেম্বর: পাবলিক পার্লামেন্ট
আরিফুল ইসলাম আদিবসিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি৩০৪ সেপ্টেম্বর: গণতন্ত্র এখন; ১৪ ও ২৯ সেপ্টেম্বর: পাবলিক পার্লামেন্ট
শহিদুল ইসলাম বাবুলসংসদ সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক, কৃষক দল৩০৭, ১৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর: পাবলিক পার্লামেন্ট

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

ডিবিসি নিউজ

ডিবিসি নিউজের নিয়মিত প্রাইম শো ‘রাজকাহন’-এ মোট ১৫টি পর্বের সম্প্রচার বিশ্লেষিত হয়েছে। রাজনৈতিক ঐক্য, ইসলামি রাজনীতি এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক সংকট এখানে প্রধান ফোকাস পেয়েছে। অনুষ্ঠানটির একক সঞ্চালক ছিলেন তাসনুভা তন্বী, যিনি একাই ১৫টি পর্ব সঞ্চালনা করে নারী উপস্থাপনার ১০০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছেন।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও অনুষ্ঠান
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানকেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী৩০৯, ১৫ ও ২৭ সেপ্টেম্বর: রাজকাহন
আশরাফ কায়সারসাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক২০৭ ও ২২ সেপ্টেম্বর: রাজকাহন
ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানাঅধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়২০৯ ও ২৯ সেপ্টেম্বর: রাজকাহন

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

চ্যানেল আই: তৃতীয় মাত্রা

চ্যানেল আই-এর অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক টক শো ‘তৃতীয় মাত্রা’ মাসজুড়ে একটি অনন্য প্রাতিষ্ঠানিক মডেল বজায় রেখেছে। নথিতে মোট ২২টি পর্বের তথ্য রয়েছে (০১ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর)। অনুষ্ঠানটির পুরো ২২টি পর্ব একাই সঞ্চালনা করেছেন প্রতিষ্ঠাতা উপস্থাপক জিল্লুর রহমান (পুরুষ ১০০ শতাংশ)। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অনুষ্ঠানে কোনো আলোচকের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি; ২২টি পর্বে অংশ নেওয়া আলোচকদের প্রত্যেকে কেবল ১টি করে পর্বে উপস্থিত ছিলেন। ফলে কোনো একক আলোচক বারবার পুনরাবৃত্ত হননি এবং আলোচনাগুলোতে বৈচিত্র্যময় বিশেষজ্ঞ মতামত নিশ্চিত হয়েছে।

আলোচকের ধরণ ও প্যানেল কাঠামোপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিসম্প্রচার চরিত্র ও মূল আলোচ্য বিষয়
স্বতন্ত্র ও অপুনরাবৃত্তিমূলক আলোচকবৃন্দ (প্রতি পর্বে আলাদা বিশেষজ্ঞ)বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিপ্রতিজন ১ বার করে (মোট ২২ পর্ব)০১ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সম্প্রচারিত পর্বসমূহ: সংবিধানের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, সংস্কার প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, সুশাসন এবং পররাষ্ট্রনীতি

(নোট: জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় কোনো আলোচকের একাধিক উপস্থিতি ছিল না)

এসএ টিভি

এসএ টিভিতে মোট ২১টি পর্বের পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় পে-স্কেল, সার ও কৃষি সংকট, সাইবার সিকিউরিটি আইন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানকে গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। সঞ্চালনায় জাহিদুর রহমান খান ১৭টি পর্ব এবং সালাউদ্দিন সাদি ৪টি পর্ব পরিচালনা করেন। এখানে সঞ্চালনায় পুরুষ ছিল ১০০ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
রুহিন হোসেন প্রিন্সসাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিপিবি২০১ সেপ্টেম্বর: সমসাময়িক রাজনীতি লেট এডিশন; ২১ সেপ্টেম্বর: ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
সারোয়ার তুষারযুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি২০২ সেপ্টেম্বর: আইন শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি; ২৪ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘে বাংলাদেশ: গুরুত্ব ও বাস্তবতা
হাসান হাফিজসভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব২০৩ সেপ্টেম্বর: পে-স্কেলঃ স্বস্তি না চাপ?; ২৩ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে ঐক্য-অনৈক্য

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

আরটিভি

আরটিভিতে মোট ২৪টি পর্বে চারটি ভিন্ন ব্যানারে টক শো সম্প্রচারিত হয়: ‘গোলটেবিল’, ‘রোড টু ডেমোক্রেসি’, ‘কেমন বাংলাদেশ চাই’ এবং ‘গণতন্ত্রের সংলাপ’। এতে দুর্নীতি বনাম নীতি, রোহিঙ্গা সংকট, ঢাকা শহরের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজপথের রাজনীতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। সঞ্চালকদের মধ্যে ড. সাইফুল হক ১০টি পর্ব, ড. তৌহিদুল হক ৭টি পর্ব, সৈয়দ আশিক রহমান ৪টি পর্ব এবং ইলিয়াস হোসেন ৪টি পর্ব সঞ্চালনা করেন। এখানে সঞ্চালনায় পুরুষ ছিল ১০০ শতাংশ।

আলোচকের নামপ্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক পরিচয়মোট উপস্থিতিউপস্থিতির তারিখ ও মূল আলোচ্য বিষয়
নিলোফার চৌধুরী মনিসংসদ সদস্য, বিএনপি৩০২ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে বিরোধ কি বাড়ছে?; ১২ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে নিষিদ্ধ উত্তাপ; ২৬ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে জনস্বার্থ কি উপেক্ষিত?
মোস্তফা কামাললেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট৩০৪ সেপ্টেম্বর: রাজপথে বিরোধী দল: কতটা চাপে সরকার?; ১৬ সেপ্টেম্বর: কতটা বদলেছে রাজনীতি ও দেশ?; ২৫ সেপ্টেম্বর: বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী: অঙ্গিকার ও বাস্তবায়ন
রেজাউল করিম রনিসম্পাদক, জবান৩০৯ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে নীতি বনাম দুর্নীতি; ২১ সেপ্টেম্বর: নাগরিক নিরাপত্তার বাংলাদেশ চাই; ৩০ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে দখল-ভাঙচুর-সংঘাত

(নোট: অবশিষ্ট আলোচকগণও ২/১টি করে পর্বে অংশ নিয়েছেন)

আলোচনার সাধারণ বিষয়বস্তু: সপ্তাহভিত্তিক সময়ক্রম ও বিবর্তন

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর জাতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলির সমান্তরালে টেলিভিশন টক শোর আলোচ্যসূচিতে একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিক বিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পুরো মাসের বিষয়বস্তুকে চারটি সুনির্দিষ্ট সপ্তাহে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা হলো।

সপ্তাহ ১ (০১ – ০৭ সেপ্টেম্বর): অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক পে-স্কেল ও লংমার্চ বিতর্ক

মাসের প্রথম সপ্তাহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এবং বাজারে এর সম্ভাব্য অভিঘাত। অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বেতন বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে কি না, তা নিয়ে টক শোগুলোতে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক হয়। একই সাথে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি এবং তা ঘিরে সরকারি দল ও প্রশাসনের সাথে সম্ভাব্য সংঘাত ছিল প্রধান আলোচনার বিষয়। এ সপ্তাহে এলিট ফোর্স র্যাবের পুনর্গঠন এবং নতুন বিশেষায়িত বাহিনী এসআরবি গঠনের রূপরেখা নিয়েও জোরালো আলোচনা হয়।

সপ্তাহ ২ (০৮ – ১৪ সেপ্টেম্বর): সংসদীয় অধিবেশন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত

দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের উত্তাপ এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট টক শোর প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়। সংসদে বিল পাস এবং সরকার ও বিরোধী দলের ওয়াকআউট বিতর্কের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পদক্ষেপ টক শোগুলোতে আলোচনাইয় আসে। এছাড়া ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক মেরুকরণ নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ বিতর্ক দেখা যায়।

সপ্তাহ ৩ (১৫ – ২১ সেপ্টেম্বর): ঐতিহাসিক বয়ান বিতর্ক, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সংঘাত

তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের জাতির জনক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনকে ঘিরে জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহাসিক বয়ান নিয়ে তীব্র বাহাস শুরু হয়। সপ্তাহের মধ্যভাগে সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি এবং তার প্রত্যক্ষ প্রভাবে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি জনজীবনে যে ক্ষোভের জন্ম দেয়, তা প্রতিটি চ্যানেলের মুখ্য বিষয়ে পরিণত হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা এবং রাজধানীতে আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণ নাগরিক নিরাপত্তার বড় সংকট হিসেবে উঠে আসে।

সপ্তাহ ৪ (২২ – ৩০ সেপ্টেম্বর): সংবিধান সংশোধন, নতুন গণভোটের বাহাস ও বৈশ্বিক কূটনীতি

মাসের শেষভাগে আলোচনা মৌলিক রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও আইনি কাঠামোর দিকে মোড় নেয়। সংবিধান সংশোধন বনাম পুনর্লিখন, সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন এবং নতুন গণভোট আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও আইনজীবীদের মধ্যে গভীর বাহাস অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে উত্থাপিত ৫ দফা প্রস্তাব এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আইনি বিশ্লেষণ প্রাধান্য পায়। মাসের শেষ দিনগুলোতে দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষায়িত মিডিয়া মনিটরিং ও কাঠামোগত পর্যবেক্ষণ

গণমাধ্যমের কাঠামোগত আচরণ ও প্যানেলিস্ট ব্যবস্থাপনার গভীরতর গতিপ্রকৃতি মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সূচকের আলোকে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে লিপিবদ্ধ করা হলো:

১. লিঙ্গবৈষম্য বা জেন্ডার রিপ্রেজেন্টেশন (Gender Analysis)

উপস্থাপকদের ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যানেলে নারীদের ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থিতি দেখা গেলেও মূল আলোচক বা বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রে জেন্ডার ব্যবধান প্রকট।

প্রাপ্ত তথ্যে মাসব্যাপী সম্প্রচারিত পর্বগুলোর মোট ৪৪৫টি আলোচক-উপস্থিতির মধ্যে ৪০০টি উপস্থিতি ছিল পুরুষদের, যা মোট উপস্থিতির ৮৯.৯ শতাংশ। অন্যদিকে নারী আলোচকদের উপস্থিতি ছিল মাত্র ৪৫ বার, যা মোট উপস্থিতির মাত্র ১০.১ শতাংশ। স্বতন্ত্র আলোচকের সংখ্যা বিবেচনা করলেও দেখা যায়, মোট আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ৯০.৬ শতাংশ পুরুষ এবং মাত্র ৯.৪ শতাংশ নারী।

নারীদের এই সীমিত উপস্থিতি মূলত মাত্র দুজন ব্যক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীল ছিল, বিএনপির নিলোফার চৌধুরী মনি (১৫ বার) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা (১০ বার)। পররাষ্ট্রনীতি, সামষ্টিক অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা বা জ্বালানি সংকটের মতো নীতি-নির্ধারণী কৌশলগত বিষয়ে নারী বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার কোনো সক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস দেখা যায়নি, যা টক শোর জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিসরে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা নির্দেশ করে।

২. ‘ম্যারাথন’ গেস্ট বা একই দিনে একাধিক উপস্থিতি

সেপ্টেম্বর মাসে একজন আলোচকের একই দিনে একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে অংশ নেওয়ার প্রবণতা নিয়মিত দৃশ্য ছিল। একই রাতে এক স্টুডিও থেকে আরেক স্টুডিওতে আলোচকদের এই স্থানান্তর প্রমাণ করে যে চ্যানেলগুলোর অতিথি বাছাইয়ের বৃত্ত অত্যন্ত সীমিত।

তারিখম্যারাথন আলোচকের নামউপস্থিত হওয়া চ্যানেল ও টক শোর বিবরণ
২১ সেপ্টেম্বররুহিন হোসেন প্রিন্স (৩টি চ্যানেল)চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে), বাংলাভিশন (পাবলিক পার্লামেন্ট), এসএ টিভি (লেট এডিশন)
২৪ সেপ্টেম্বরমোশাররফ আহমেদ ঠাকুর (৩টি চ্যানেল)নিউজ ২৪ (জনতন্ত্র গণতন্ত্র), চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে), এসএ টিভি (এসএ টিভি সংলাপ)
০৩ সেপ্টেম্বরশরিফুজ্জামান শরিফ (২টি চ্যানেল)যমুনা টিভি (যমুনা টক শো), নিউজ ২৪ (নতুন বাংলাদেশ)
০৪ সেপ্টেম্বরমজিবুর রহমান মঞ্জু (২টি চ্যানেল)সময় টিভি (সম্পাদকীয়), চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে)
০৪ সেপ্টেম্বরঅধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান (২টি চ্যানেল)স্টার নিউজ (কড়া আলাপ), একাত্তর টিভি (একাত্তর জার্নাল)
০৮ সেপ্টেম্বরগোলাম মাওলা রনি (২টি চ্যানেল)চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে), বাংলাভিশন (Front Line)
০৯ সেপ্টেম্বরআজিজুল বারী হেলাল (২টি চ্যানেল)নিউজ ২৪ (জনতন্ত্র গণতন্ত্র), আরটিভি (গোলটেবিল)
০৯ সেপ্টেম্বরঅধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা (২টি চ্যানেল)নিউজ ২৪ (জনতন্ত্র গণতন্ত্র), ডিবিসি নিউজ (রাজকাহন)
১৩ সেপ্টেম্বরহেলেন জেরিন খান (২টি চ্যানেল)চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে), একাত্তর টিভি (একাত্তর জার্নাল)
১৫ সেপ্টেম্বরফরিদুল হক (২টি চ্যানেল)বাংলাভিশন (পাবলিক পার্লামেন্ট), এসএ টিভি (লেট এডিশন)
১৫ সেপ্টেম্বরসারোয়ার তুষার (২টি চ্যানেল)যমুনা টিভি (যমুনা টক শো), আরটিভি (গণতন্ত্রের সংলাপ)
১৬ সেপ্টেম্বরমোস্তফা কামাল (২টি চ্যানেল)সময় টিভি (সম্পাদকীয়), আরটিভি (গোলটেবিল)
২০ সেপ্টেম্বরফজলে হুদা বাবুল (২টি চ্যানেল)সময় টিভি (সম্পাদকীয়), একাত্তর টিভি (একাত্তর জার্নাল)
২১ সেপ্টেম্বরমজিবুর রহমান মঞ্জু (২টি চ্যানেল)চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে), বাংলাভিশন (পাবলিক পার্লামেন্ট)
২৩ সেপ্টেম্বরশরিফুজ্জামান শরিফ (২টি চ্যানেল)স্টার নিউজ (কড়া আলাপ), নিউজ ২৪ (জনতন্ত্র গণতন্ত্র)
২৬ সেপ্টেম্বরনিলোফার চৌধুরী মনি (২টি চ্যানেল)নিউজ ২৪ (জনতন্ত্র গণতন্ত্র), আরটিভি (রোড টু ডেমোক্রেসি)
২৬ সেপ্টেম্বরতাহসিন রিয়াজ (২টি চ্যানেল)যমুনা টিভি (যমুনা টক শো), চ্যানেল ওয়ান (কঠিন কথা সহজে)
২৭ সেপ্টেম্বরসাহেদ আলম (২টি চ্যানেল)সময় টিভি (সম্পাদকীয়), চ্যানেল ওয়ান (নির্বাচিত খবর)
২৮ সেপ্টেম্বরনিলোফার চৌধুরী মনি (২টি চ্যানেল)এখন টিভি (এখন প্রকাশ), একাত্তর টিভি (একাত্তর জার্নাল)
২৮ সেপ্টেম্বরশরিফুজ্জামান শরিফ (২টি চ্যানেল)নিউজ ২৪ (নতুন বাংলাদেশ), এখন টিভি (এখন প্রকাশ)
২৯ সেপ্টেম্বরফরিদুল হক (২টি চ্যানেল)একাত্তর টিভি (একাত্তর জার্নাল), বাংলাভিশন (পাবলিক পার্লামেন্ট)
২৯ সেপ্টেম্বরব্যারিস্টার আল মামুন রাসেল (২টি চ্যানেল)স্টার নিউজ (কড়া আলাপ), যমুনা টিভি (যমুনা টক শো)
৩০ সেপ্টেম্বররেজাউল করিম রনি (২টি চ্যানেল)নিউজ ২৪ (জনতন্ত্র গণতন্ত্র), আরটিভি (গোলটেবিল)
৩০ সেপ্টেম্বরসাহেদ আলম (২টি চ্যানেল)স্টার নিউজ (কড়া আলাপ), যমুনা টিভি (যমুনা টক শো)

৩. চ্যানেল ও আলোচকের পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা বা আনুগত্য

আলোচকদের উপস্থিতি বিশ্লেষণ করলে নির্দিষ্ট কিছু চ্যানেলের সাথে নির্দিষ্ট আলোচকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা আনুগত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শরিফুজ্জামান শরিফের মোট ১৫টি উপস্থিতির মধ্যে ৬টিই (৪০%) হয়েছে নিউজ ২৪-এ। ড. সাজিদুল হক রুবেলের ১০টি উপস্থিতির মধ্যে ৬টি (৬০%) এবং রেজাউল করিম রনির ১৪টির মধ্যে ৫টি (৩৫.৭%) সম্পন্ন হয়েছে এই একক চ্যানেলে। এটি প্রমাণ করে যে চ্যানেলটির প্রযোজনা দল নির্দিষ্ট তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ঘরানার ব্যক্তিদের ওপর নিয়মিত নির্ভর করে।

বিপরীতে নিলোফার চৌধুরী মনি এবং সারোয়ার তুষারের উপস্থিতি প্রায় প্রতিটি চ্যানেলে সুষমভাবে বণ্টিত ছিল। তারা নির্দিষ্ট কোনো চ্যানেলে সীমাবদ্ধ না থেকে সময় টিভি, একাত্তর টিভি, যমুনা টিভি, বাংলাভিশন এবং আরটিভিতে প্রায় সমানভাবে উপস্থিত হয়ে সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখেছেন।

অন্যদিকে চ্যানেল আই-এর ফ্ল্যাগশিপ অনুষ্ঠান তৃতীয় মাত্রা এই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী সম্পাদকীয় নীতি বজায় রেখেছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসে প্রচারিত ২২টি পর্বের প্রতিটিতে স্বতন্ত্র আলোচকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং কোনো আলোচককেই দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা অন্যান্য ১২টি চ্যানেলের পুনরাবৃত্তিমূলক সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

উপসংহার ও নীতিনির্ধারণী পর্যবেক্ষণ

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর টেলিভিশন টক শো মনিটরিং প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের সম্প্রচার গণমাধ্যম রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক সংকট ও জনমত গঠনে প্রাণবন্ত ভূমিকা পালন করছে। তবে একই সাথে আলোচক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির ওপর নির্ভরতা, নারী আলোচকদের প্রান্তিক উপস্থিতি এবং জাতীয় অর্থনীতির মৌলিক সংকটের তুলনায় সংকীর্ণ দলীয় মেরুকরণে অতিরিক্ত সময় ব্যয় টক শোগুলোর সামগ্রিক গুণগত মানকে সীমিত করছে। প্রস্তুতকৃত বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনটি মূলত পর্যবেক্ষণকালীন সময়ে সংগৃহীত ডাটা এবং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং সার্বিক মানবসম্পদগত অপ্রতুলতার কারণে দেশের সকল টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় অডিও-টু-টেক্সট ট্রান্সক্রিপশন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটিয়ে দেশের সকল গণমাধ্যমের আলোচনা এবং জনমতের ধারাকে ট্র্যাক করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বর্তমান প্রতিবেদনটি দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ, গবেষক এবং রাজনৈতিক নীতি-নির্ধারকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

তথ্য সংগ্রহ: আবু বকর, এম এ এ আসাদুজ্জামান জনি, সাবরিনা রহমান সিমলা

তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: তানভীর আলম রিফাত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top