কালেরকন্ঠের ‘উৎস’ বিকৃতি না কি ‘প্রোপাগান্ডা’ কৌশল?

ক্রনিকলার ফেলো: মেঘমল্লার বসুর অসুস্থতা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেলের নামে “আত্মহত্যার চেষ্টা” সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধৃত করে প্রচার করেছে কালেরকন্ঠ অনলাইন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরবর্তীতে প্রকাশ্যে এই দাবি অস্বীকার করেছেন এবং তার নামে প্রচারিত বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি আমরা তার অডিও বক্তব্য্ব সংগ্রহ করেছি। এই ঘটনাটি ভুল অ্যাট্রিবিউশন ঝুঁকির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ , যেখানে সংবেদনশীল বক্তব্য একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে যুক্ত করে তা প্রচার করা হয়েছে।

এই ধরনের অ্যাট্রিবিউশন ম্যানিপুলেশন একটি কার্যকর ন্যারেটিভ কৌশল। কোনো তথ্য যদি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে যুক্ত হয়, তাহলে তা অধিক গ্রহণযোগ্যতা পায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যদি সেই অ্যাট্রিবিউশন সঠিক না হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থানকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন।

ঘটনাটিতে প্রোপাগান্ডা কৌশলের একাধিক উপাদান পাওয়া যায়। প্রথমত, ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন ঝুঁকি রয়েছে, কারণ আত্মহত্যার মতো সংবেদনশীল প্রসঙ্গে নাম যুক্ত হলে সামাজিকভাবে ব্যক্তিকে দুর্বল বা অস্থিতিশীল হিসেবে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, ইমোশনাল ট্রিগারিং কাজ করতে পারে, কারণ “আত্মহত্যা” শব্দটি উচ্চমাত্রার আবেগ সৃষ্টি করে এবং দ্রুত প্রচারের পরিবেশ তৈরি করে। তৃতীয়ত, ইনফরমেশন ক্যাসকেড দেখা গেছে, যেখানে একটি মাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অন্যরা যাচাই ছাড়া পুনঃপ্রচার করেছে, ফলে ন্যারেটিভটি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জাবির আহমেদ জুবেলের জন্য এই ধরনের ভুল বা বিতর্কিত অ্যাট্রিবিউশন বহুমাত্রিক ব্যক্তিগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রথমত, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একবার নাম যুক্ত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে থেকে যায়। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী ভবিষ্যতে এই ঘটনাকে প্রচারণার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তৃতীয়ত, সামাজিক কলঙ্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চতুর্থত, সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি বা আস্থাহানি তৈরি হতে পারে, যা তার সাংগঠনিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

এই ঘটনা গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা ও সম্পাদকীয় সতর্কতার প্রশ্নও সামনে আনে। উৎস যাচাই ও উদ্ধৃতি নিশ্চিতকরণে ব্যর্থতা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সংবাদ ব্যবস্থার সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষয় করে। কপি-পেস্ট সাংবাদিকতা ও দ্রুত প্রকাশের প্রবণতা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top