মে ২০২৬ মাসিক মিডিয়া মনিটরিং প্রতিবেদন: মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের প্রবণতা বিশ্লেষণ

ডেটা উৎস ও সীমাবদ্ধতা

এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের অন্যতম ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা যথা রিউমার স্ক্যানার, ডিসমিসল্যাব, বুম বিডি এবং ফ্যাক্ট ওয়াচ-এর প্রকাশিত ডেটা ও রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলোর কাজের পরিধির বাইরে কেউ যদি কোনো মিসইনফরমেশন বা ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে থাকে, অথবা কোনো ভুল তথ্য যদি ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলোর নজরে না পড়ে, সেক্ষেত্রে সেগুলো এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আরেকটি বিষয় হলো, একটি নির্দিষ্ট মিস বা ডিসইনফরমেশন নিয়ে যদি একাধিক ফ্যাক্ট-চেক সংস্থা প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, তবে তা বিশ্লেষণে একবারই গণনা করা হয়েছে।

মোট ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন ও মিসইনফরমেশনের পরিমাণ

মে মাসে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে মোট ২২টি ফ্যাক্ট-চেকিং ভুক্তি বিশ্লেষণ করে এই মাসিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১টি ঘটনা (যথা, ‘কর্ণফুলী টানেল নিয়ে তারেক রহমানের বিকৃত মন্তব্য’) একাধিকবার ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা দ্বারা যাচাই করা হয়েছে। ডুপ্লিকেট তথ্যগুলোকে একবার কাউন্ট করে সব মিলিয়ে ২১টি স্বতন্ত্র ভুল বা অপতথ্যের ঘটনা পাওয়া যায়, যা বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো মে মাসে ছড়িয়েছে।

মিস ও ডিসইনফরমেশনগুলোর ধরন বিশ্লেষণ

ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যগুলোকে বিশ্লেষণ করলে প্রধানত কয়েকটি ধরন পরিলক্ষিত হয়:

১. ভিন্ন প্রেক্ষাপট বা পুরোনো ছবি/ভিডিও: অন্য দেশের বা পুরোনো ভিডিও/ছবিকে সাম্প্রতিক ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেযোগ্য হলো, ভারতে মসজিদে হামলার দাবিতে পুরোনো ও ভিন্ন দেশের ভিডিও প্রচার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো অফিস আদেশকে সাম্প্রতিক বলে দাবি, মোশাররফ হোসেনের জানাজার পুরোনো ছবি এবং খুলনা আদালতে শিশু ধর্ষণকারীকে গুলির পুরোনো ভিডিও।

২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর গুজব: এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ও ছবিকে বাস্তব ঘটনা বলে প্রচার করা হয়েছে। যেমন, হাঙর থেকে বাঁচতে সিল মাছের নৌকায় ওঠা, সাইকেলে নদী পাড়ি দেওয়া, ইন্দোনেশিয়ায় হাতির পিঠে বাঘ এবং করাচিতে দানবাকৃতির ষাঁড়।

৩. ভুয়া মন্তব্য ও বিবৃতি: রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং তারকাদের নামে বানোয়াট মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে থালাপতি বিজয়, তারেক রহমান, শফিকুল আলম এবং জুবাইদা রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। 

৪. আন্তর্জাতিক ও অন্যান্য: যুক্তরাজ্যের ইমামকে বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করা বা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ছবি অন্যজনের বলে চালিয়ে দেওয়া।

প্রবণতা বিশ্লেষণ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাসে সবচেয়ে বেশি মিসইনফরমেশন ছড়ানোর ট্রেন্ড ছিল মূলত পুরোনো কনটেন্টকে নতুন বা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন এবং এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট শেয়ার করা। বিশেষ করে ধর্মীয় ইস্যু (যেমন ভারতের মসজিদের ঘটনা) এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নামে ভুয়া বক্তব্য ছড়ানোর প্রবণতা বেশি ছিল। প্রযুক্তিগত যাচাইয়ে সংবাদ ও গণমাধ্যমগুলোর দুর্বলতার কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত দৃশ্যগুলো খুব সহজেই সংবাদমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে।

একাধিক ভুল বা অপতথ্য ছড়ানো গণমাধ্যম

একাধিক মিস বা ডিসইনফরমেশন ছড়ানোর তালিকায় মে মাসে সবার উপরে রয়েছে দৈনিক ইনকিলাব (৭টি ভুল)। এছাড়া বৈশাখী টিভি (৩টি) এবং আরটিভি, এনটিভি, ইত্তেফাক, চ্যানেল২৪, ঢাকা ট্রিবিউনের মতো গণমাধ্যমগুলো একাধিক ভুয়া খবর ছড়িয়েছে।

এ প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ মিডিয়া মনিটরের রিসার্চ অ্যান্ড মনিটরিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভলান্টিয়ার চাঁদনী আক্তার

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top